News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০২ আগস্ট, ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

গ্যাস সংকট নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে ১৫০ স্পিনিং মিল বন্ধের পথে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম গ্যাস সংকট নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে ১৫০ স্পিনিং মিল বন্ধের পথে

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান দুই এলএনজি টার্মিনালের একটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে দেশজুড়ে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে এক মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ ৪০ শতাংশের নিচে নামার কথা বলছেন কারখানার উদ্যোক্তারা। এতে উৎপাদন সক্ষমতাও ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে যাওয়ার কথা বলছেন তারা। ধারাবাহিক এ সংকটের ফলে এরই মধ্যে সারাদেশের প্রায় ১৫০টি স্পিনিং মিল (সুতা উৎপাদনকারী কারখানা) বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে। একই সাথে তাঁতপ্রধান এলাকাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ থাকায় কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ তাঁতি।

জানা গেছে, প্রতিদিন গ্যাসের মোট সরবরাহের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে।তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের মেরুদণ্ড। এর আগে বছরজুড়ে গ্যাসসহ নানা সংকটের মধ্যে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাতটি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেই নতুন করে গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা বলছেন কারখানা মালিকরা। বিদ্যুতের পর সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার হয় শিল্পকারখানায়।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক গ্যাস চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। গত কয়েক বছর থেকে দিনে সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট। অগ্নিদুর্ঘটনায় এলএনজির একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামত করে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সপ্তাহখানেক লাগতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘‘অক্ষত বয়লারটি চালানোর চেষ্টা চলছে, পরে ক্ষতিগ্রস্তটি। শুরুতে সরবরাহ এখনকার চেয়ে কিছুটা বাড়বে। কিন্তু দুর্ঘটনার আগে যে পরিমাণ গ্যাস লাইনে যেত, সেরকম পেতে আরো সময় লাগবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক ও বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মান জানান, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দাভাব থাকায় সামগ্রিক টেক্সটাইল খাত এখন চরম সংকটে। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের প্রায় ১৫০টি স্পিনিং মিল (সুতা উৎপাদনকারী কারখানা) বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সংকটের কারণে মাধবদী, নরসিংদী, শেখেরচর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও টাঙ্গাইলের সিংহভাগ তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সুতার বাজার অস্থিতিশীল ও উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্থানীয় এসব তাঁত কারখানার ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ শ্রমিক এখন কাজ হারিয়ে বেকার জীবনযাপন করছেন।

এম সোলায়মান বলেন, একসময় দেশের পোশাক খাতের প্রয়োজনীয় সুতার প্রায় ৮০ শতাংশই সরবরাহ করত দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো। কিন্তু বর্তমানে পোশাক খাতের মন্দা ও আমদানিকৃত সুতার প্রভাবে দেশীয় কারখানাগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

টার্নওভার ট্যাক্স নিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের কথ তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদন সংকটের পাশাপাশি ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স নির্ধারণ করায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যাংকে লেনদেনের ক্ষেত্রে ১ কোটি টাকা লেনদেনে ১ লাখ টাকা ট্যাক্স কেটে নেওয়ার নিয়ম ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যবসা করে যেখানে কোটি টাকায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করাই কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে ১ লাখ টাকা ট্যাক্স হিসেবে কেটে নেওয়া হলে ব্যবসা পুরোপুরি লাটে উঠবে। লাভ-লোকসান যাই হোক, এভাবে লেনদেনের ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপ কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।”

তিনি আরো বলেন, চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দূর করা এবং টার্নওভার ট্যাক্সের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা না হলে দেশের টেক্সটাইল ও তাঁত শিল্প পুরোপুরি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা এই খাতকে বাঁচাতে সরকারের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ কামনা করছেন।

তিনি বলেন, এই খাতকে আগে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গ্যাসনির্ভর কোনো দেশেই এরকম বিপর্যয় হয় না। থাইল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ আর কোনো দেশেতো গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয় না।

আমরাওতো টাকা দিয়ে গ্যাস কিনি, আমাদের গ্যাস পেতে এত সমস্যা কেন হবে। আমাদের একেক সময়ে একেকটি হচ্ছে। কিন্তু সবশেষে আমরা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।