নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার করে ব্যবসা দখল এবং কোন কোন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ বেশ পুরোনো। গোপনে বহু বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত নেতা এসব চাঁদাবাজি করে আসছেন নীরবে। সেই নীরবতা ভেঙ্গে এবার খোদ গার্মেন্টস থেকে টাকার ভাগ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্ষেপ করতে শুরু করেছেন এক ছাত্রদল নেতা। সেই খবর আবার ফলাও করে প্রচার করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছাত্রদল নেতার এমন নির্লজ্জ আক্ষেপে হতবাক রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গার্মেন্ট থেকে টাকা না পেয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করেন ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিয়াদ দেওয়ান।
তিনি লিখেন, ‘বিসিকের ফকির গ্রুপ থেকে বিএনপির এক নেতার বাড়ির পাশের নাপিতও প্রতি ট্রিপে ১০ হাজার টাকা পাচ্ছে। অথচ আন্দোলনের সময় ফতুল্লায় সর্বোচ্চ ভুমিকা রাখা ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের কোন নেতাকর্মী কোন কিছু পাচ্ছে না। সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে জবাব চাই।‘
তার সেই পোস্টে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই টাকা কিসের? এই ১০ হাজার টাকা কোন মেহনতের মাধ্যমে আসছে? যদিও এসব প্রশ্নের কোন জবাব দেননি। কিন্তু সমালোচনার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। একজন ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে চাঁদার ভাগ চাইছেন। সেই চাঁদা না পেয়ে আবার আক্ষেপ করছেন এবং জবাব চাচ্ছেন বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কাছে। এর চাইতে বড় অবক্ষয়ের চিত্র আর দেখা যায়নি রাজনীতিতে।
তীব্র সমালোচনা করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ফতুল্লা থানার ছাত্রদলের সদস্য সচিব পোস্ট করেছে তাদের কেন বিসিকের ফকির গ্রুপ গার্মেন্টস থেকে চাঁদার ভাগ দেয় না। এই হচ্ছে তাদের দলের ছাত্র সংগঠনের অবস্থা।’
এই পোস্টের বিষয়ে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান দোলন বলেন, ‘এখানে চাঁদা চাওয়া হয়নি। এটা এনসিপির নেতাকর্মীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। মূলত আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরকে গার্মেন্ট ব্যবসায় যুক্ত না হবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে গার্মেন্টসে ব্যবসা করে বিএনপি নেতার বাড়ির পাশের প্রতিবেশীও লভ্যাংশ পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের কর্মীরা কিছুই পাচ্ছে না। সেই দিক থেকেই হতাশা নিয়ে এই পোস্ট করেছেন। যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশা ব্যক্ত করছেন। ব্যবসা বাণিজ্য কোথাও সুযোগ না পেয়ে তারা এই হতাশা জানাচ্ছেন। পাশাপাশি ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতারা ছাত্রদলের নেতাদের কোন খোঁজ খবর নেয় না এবং কোন সহায়তা করেনা বলে অভিযোগ করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরেই এই মনস্তাত্বিক যুদ্ধ চলছে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে। মাঝে মধ্যে বিএনপি নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেও পোস্ট দিচ্ছেন। এরই মধ্যে এবার টাকার ভাগ না পেয়ে পোস্ট দিয়ে আলোচনায় এসেছেন ছাত্রদল নেতা রিয়াদ।



































আপনার মতামত লিখুন :