নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (মিশুক) নিয়ন্ত্রণে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে নাসিক কর্তৃপক্ষ। কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা সম্বলিত ডিজিটাল নম্বর প্লেট ছাড়া নাসিক এলাকায় অটোরিকশা (মিশুক) চালাতে পারবেনা। শহরজুড়ে মাইকিং করেছে নাসিক কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার আমলে শহরে রিকশা চালানোর জন্য ১০ হাজারের বেশী লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিলুপ্ত সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা সাড়ে ৩ হাজারের মতো রিকশার লাইসেন্স প্রদান করেছিল। বিলুপ্ত কদমরসুল পৌরসভা দেড় হাজারের মতো রিকশার লাইসেন্স প্রদান করেছিল। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদমরসুল পৌরসভা বিলুপ্ত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন করা হলেও দীর্ঘদিন রিকশার লাইসেন্স নবায়ন ও নামজারি বন্ধ ছিল। ২০২৩ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মাসিক সভায় রিকশার লাইসেন্সগুলোকে মিশুকে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে ২০২৪ সালে রিকশার লাইসেন্সগুলোকে মিশুকের লাইসেন্স হিসেবে রূপান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়। সেসময় যেসব রিকশার লাইসেন্স ছিল তারা পর্যায়ক্রমে ফি পরিশোধ করে রিকশার থেকে মিশুকের লাইসেন্সে নবায়ন করে। তবে তৎকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কোন দায়িত্বশীল প্রশাসক না থাকায় নবায়নের বিষয়ে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি নাসিক কর্তৃপক্ষ। তবে রিকশা থেকে মিশুকের লাইসেন্সে রূপান্তর হলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের যে প্লেট দেয়া হয়েছিল সেগুলো নকল হয়ে যাওয়ায় প্রকৃত লাইসেন্সধারী মিশুক মালিক ও চালকরা পড়েন বিপাকে। নকল প্লেট নিয়ে শহরে অবাধে চলতে থাকে। নাসিক কর্তৃপক্ষ ও মিশুক মালিক চালকদের সমন্বয়ে একাধিকবার অভিযান পরিচালিত হলেও তাতে কোন কাজ হচ্ছিলনা। বরং শহরে ১০ হাজারের কিছু বেশী লাইসেন্সধারী মিশুক চলার কথা থাকলেও চলছিল ৫০ হাজারের বেশী। পরে নাসিক কর্তৃপক্ষ শহরে লাইসেন্সধারী মিশুকগুলোকে হলুদ রং দেয়ার নির্দেশ দিলেও তাতে কোন কাজ হয়নি। যে কারণে আধুনিক ডিজিটাল নাম্বার প্লেট দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল প্রকৃত মিশুক মালিক ও চালকরা। পরে শহরের যানজট কমাতে এবং ডিজিটাল নাম্বার প্লেট নকল ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ একাধিক সভার আয়োজন করে। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৮ আগষ্ট থেকে মিশুকের ডিজিটাল নাম্বার প্লেট নবায়ন ও নামজারি শুরু হয়। একটি নিবন্ধনের বিপরীতে একাধিক যান চলাচল ঠেকাতে ডিজিটাল নম্বর প্লেটে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সকল বৈধ মিশুক মালিকদের লাইসেন্স করার জন্য গত ১৮ আগষ্ট থেকে গত ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত নবায়ন ফি ছিল ৮ হাজার ৩৬৫ টাকা। তবে বর্তমানে নবায়ন ফি সর্বমোট ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৫৫ টাকা। এছাড়াও নামজারী ফি ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৫০ টাকা। যা সর্বমোট গিয়ে দাড়ায় ১৪ হাজার ৭০৫ টাকা। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে নবায়ন ও নামজারির করতে অনেক টাকা দরকার ও কঠিন শর্তের কারনে সময় খুব কম হওয়াতে অনেক মিশুক মালিক নবায়ন করতে হিমশিম অবস্থায় পড়েছে। কারণ অনেক গ্যারেজ মালিক রয়েছে যাদের গ্যারেজে ২০ থেকে ২৫টি বা তারও অধিক রিকশা ছিল যাদের গ্যারেজে বর্তমানে মিশুক রয়েছে। হঠাৎ করে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হওয়ায় এবং নবায়ন নামজারিতে কঠিন শর্ত আরোপের কারণে অনেক মিশুক মালিক নবায়ন ও নামজারি করতে ব্যর্থ হন। এছাড়াও যারাই নবায়ন ও নামজারি করতে আসছেন তাদের পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। নাসিকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মিশুক মালিকদের নানাভাবে ভুল বুঝিয়ে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল। পরে মিশুক লাইসেন্স মালিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাইসেন্স নবায়ন ও নামজারির সময়সীমা বাড়িয়ে দেয় নাসিক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শহরের যানজট নিরসনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল নাম্বার প্লেট ছাড়া মিশুক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ১ অক্টোবর থেকে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা সম্বলিত ডিজিটাল নম্বর প্লেট ছাড়া নাসিক এলাকায় অটোরিকশা (মিশুক) চালাতে পারবেনা। এ বিষয়ে মঙ্গলবার শহরজুড়ে মাইকিং করেছে নাসিক কর্তৃপক্ষ। যদি কোন মিশুক মালিক ডিজিটাল নম্বর প্লেট ছাড়া নাসিক এলাকায় মিশুক চালাতে চায় তাহলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মিশুক মালিক জানান, মিশুক লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে একটি ৩০-৩৫ জনের একটি দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নাসিকের লাইসেন্স শাখার কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে লাইসেন্স কিনে ডিজিটাল নাম্বার প্লেটের বাণিজ্য করতে চায়। এরা সহজ সরল মালিকদেরকে ফুসলিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের লাইসেন্স হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।







































আপনার মতামত লিখুন :