সোনারগাঁয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবশক্তির যুগ্ম-সদস্য সচিব অনিক খাঁন সিয়ামের বিরুদ্ধে সরকারী সড়ক বন্ধের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক বন্ধের প্রতিবাদ করায় এনসিপির এই নেতা প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ তোল হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সোনারগাঁ পৌরসভার ফতেকান্দি এলাকায় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জানা যায়, পৌরসভার ফতেকান্দি গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে জেলা যুবশক্তির যুগ্ম- সদস্য সচিব অনিক খান সিয়ামের সঙ্গে পাশ্ববর্তী তারই স্বজন তাইজুল ইসলামের সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। পূর্বের সেই বিরোধ নিয়ে ভুক্তভোগী তাইজুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি দায়েরের বিষয়টি জানার পর বেশকিছুদিন যাবত এনসিপি নেতা অনিক খান সিয়ামের সঙ্গে তাজুল ইসলামদের পরিবারের ঝামেলা হচ্ছিল। তারই জের ধরে মঙ্গলবার রাতে অভিযোগের তীর উঠা এনসিপি নেতার লোকজন মানুষের চলাচলের সরকারী সড়কে টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে বুধবার সকালে প্রতিবাদ করায় এনসিপি নেতা অনিক খান সিয়ামসহ তার ১০-১২জনের সহযোগী লাঠিসোটায় সজ্জিত হয়ে তাইজুল ইসলাম ভাতিজা আবুল বাশারের দুটি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময়ে ভুক্তভোগীরা তাৎক্ষনিক ৯৯৯ এ সহযোগিতা চাইলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
ফতেকান্দি গ্রামের তমিজউদ্দিন জানান, এনসিপি নেতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারী হালটে বাড়িঘর নির্মাণ করে রাখে। পাশ্ববর্তী বাড়ির সীমানা নিয়ে দ্বন্ধ, কিন্তু সরকারী রাস্তায় টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার কারণে এ পথ দিয়ে মানুষ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সিয়াম এলাকায় এনসিপির প্রভাব খাটিয়ে এসব করছে। প্রতিবাদ করলেই মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হয়।
ফতেকান্দি গ্রামের আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ রাস্তা দিয়ে এ গ্রামের মানুষের চলাচল। হঠ্যাৎ প্রভাব খাটিয়ে অনিক এ রাস্তা বন্ধ করে দেয়। গ্রামের মানুষ খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তা মানেনি।
গ্রামবাসীর দাবি, অনিক খাঁন সিয়াম ২৪ সালের ৫ই আগষ্টের পর নিজেকে এনসিপি নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করে আসছে। পাশ্ববর্তী প্রেমের বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী তাইজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাড়ির সীমানা নিয়ে অনিক খান সিয়ামের পরিবারের সাথে আমাদের দ্বন্ধ চলমান। সে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা প্রতিবাদ করায় আমার ভাতিজা আবুল বাশারের দুটি ঘর ভাংচুর করে নগদ ২ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। এনসিপি নেতা দাঁড়িয়ে থেকে তার সহযোগীদের দিয়ে এ কাজ করেয়েছে। একপর্যায়ে বেগতিক দেখে ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ আসলে তারা দ্রুত চলে যায়।
অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবশক্তির সাবেক যুগ্ম-সদস্য সচিব অনিক খান সিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বলেন, সড়ক বন্ধ বা বাড়িঘর ভাংচুরের সঙ্গে আমি জড়িত না। যিনি এ অভিযোগ তুলেছেন তিনি সম্পর্কে আমার আত্মীয় হয়। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, প্রয়োজনে আপনারা এলাকাবাসীর কাছে জানতে পারেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবশক্তির সাবেক আহবায়ক শাকিল সাইফুল্লাহ বলেন, বিষয়টি মনে হয় তার ব্যক্তিগত সমস্যা। এ ঘটনায় সে দোষী প্রমাণিত হলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হলে আমাদের রাজনৈতিকভাবে আপত্তি থাকবে না।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ৯৯৯এ একটি কল পেয়ে আমাদের পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।











-20260603135648.jpg)



















আপনার মতামত লিখুন :