ক্ষণিকের আবেগের কাছে হেরে গেল একটি তাজা প্রাণ, মাতৃত্বের অমোঘ টানও আটকাতে পারল না তাকে। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দূর পরবাসে থাকা স্বামীর সাথে মুঠোফোনে অভিমান করে সাদিয়া আক্তার (২৪) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের হাজরাদী এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সাদিয়া ওই এলাকার সাঈদ হোসেনের কন্যা এবং এক অবুজ সন্তানের জননী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রবাসী স্বামী বিপ্লব হোসেনের সাথে সাদিয়ার মনোমালিন্য চলছিল। গত শুক্রবার মুঠোফোনে দুজনের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্বজনদের ধারণা, স্বামীর সেই নির্মম বাক্যবাণ সহ্য করতে না পেরে এবং গভীর অভিমানে সোমবার বিকেলে শ্বশুরবাড়ির টিনশেড ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে নিজের জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেন এই গৃহবধূ।
ঘটনার সময় ঘরে কেউ ছিল না। সাদিয়ার আত্মাহুতির পর তার একমাত্র নাবালক পুত্র মুস্তাকিম ঘরের দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। মায়ের নিথর দেহ ঝুলতে দেখে অবুজ শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। তার আকুল আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং ঘরের আড়ার সাথে সাদিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।
খবর পেয়ে মদনগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের মা শিরিন বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা প্ররোচনা লুকিয়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশি তদন্ত আইনানুযায়ী অব্যাহত রয়েছে।






































আপনার মতামত লিখুন :