নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সবিচ অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুতে মহানগর বিএনপিতে যেন ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দুইজন দুই বলয়ে চলে গিয়েছেন। আর তাদের বিভক্তিতে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝেও বিভক্ত সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা-সংশয় সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগ -৫ (সদর-বন্দর) আসন এলাকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সবিচ অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। বিশেষ করে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বেশ আলোচনায় ছিলেন। সেই সাথে তারা দুইজনেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরব অবস্থান জানান দিয়ে আসছিলেন। বিভিন্নভাবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৩৭টি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনে প্রার্থীর নাম রয়েছে। গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তালিকা প্রকাশ করেন।
নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মাসুদুজ্জামান মাসুদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়টিকে সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু আল ইউসুফ খান টিপু মেনে নিতে পারছিলেন না। তারা দলীয় মনোনীত প্রার্থী মাদুজ্জামানের বিরোধী অবস্থানে ছিলেন।
সেই সথে সাবেক এমপি আবুল কালাম, শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুল, মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে মাসুদুজ্জামানের বিরোধী বলয় গড়ে উঠে। সেই সাথে তারা কিছুদিন ঐক্যবদ্ধভাবেই বিরোধী অবস্থান জানান দিয়ে আসছিলেন।
এরই মধ্যে গত ২৭ নভেম্বর শহরের ররফকল মাঠে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের পক্ষে নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়। তবে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। আর এই সভায় মাসুদুজ্জামানকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে উপস্থিত হয়েছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
শুধু জনসভায় উপস্থিতই হনি তিনি এই জনসভার সভাপতির সভাপতিত্ব করেন। যার মধ্য দিয়ে আবু আল ইউসুফ খান টিপু মাসুদের বলয়ে ভীড়েন। কিন্তু মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জনসভায় উপস্থিত হননি।
শুক্রবার বন্দরে চমক দেখিয়েছেন বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমাবেশে জনতার ঢল নামে।
সমাবেশ মঞ্চে ছিলেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সাবেক এমপি আবুল কালাম, শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুল, জেলা মহিলা দলের আহবায়ক রহিমা শরীফ মায়া, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা সহ নেতাকর্মীরা।
যার মধ্য দিয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের মধ্যে একটি বিরোধী অবস্থান তৈরি হয়েছে। দুইজন দুই বলয়ে গিয়ে সভা সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন। সভা সমাবেশে বক্তব্যে মধ্য দিয়ে যার অবস্থানকে পোক্ত করার চেষ্টা করছেন। ফলে তাদের এই বিরোধ নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সাথে এই বিরোধের সূত্র ধরে মহানগর বিএনপিতেও ভাঙ্গন সৃষ্টি হতে পারে।
এর আগে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. শাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব হিসেবে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আর এই কমিটি ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরপরই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে ১৫ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। যারা সবসময় মহানগর বিএনপির কর্মসূচির বাইরে অবস্থান করে আসছিলেন। তারা সবসময় আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
এতদিন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ঐক্যবদ্ধ থাকলেও অন্য নেতাদের মধ্যে বিভক্তি ছিলো। এবার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের মধ্যেই বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে।








































আপনার মতামত লিখুন :