দীর্ঘ প্রায়৯ বছর ধরে আটকে থাকা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে গতি ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ টার্মিনালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল ও নির্মাণাধীন খানপুর আইসিটি এন্ড বাঙ্ক টার্মিনাল, নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার বেইজ এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের মাছঘাট সংলগ্ন নির্মিতব্য টার্মিনাল ভবন পরিদর্শন ও কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, এটার কাজ করতেই হবে। কিন্তু কি কারণে বন্ধ এটা আমাদের বিস্তৃতিভাবে জানা প্রয়োজন আছে। সেটা যথাযথভাবে জেনে নিশ্চয়ই কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের চেষ্টা থাকবে প্রদক্ষেপ থাকবে।
এর আগে দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর আগে শুরু করা হয়েছিলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প। কিন্তু এই ৯ বছরে কাজ হয়েছে অর্ধাংশ। আর বাকী অর্ধাংশের কাজ কবে শেষ হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বর্তমানে নির্মাণ কাজ একেবারেই থেমে রয়েছে। এই অবস্থায় সীমাহীন ভোগান্তি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে যাত্রীদের।
যাত্রী ও রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা যাওয়া করলেও স্টেশনের অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবা সবকিছুতেই রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। বর্ষাকালে যাত্রীদের ভিজতে হয় বৃষ্টিতে; শীতকালে শীতে ভুগতে হয় আর গ্রীষ্মকালে তীব্র রৌদ্রের তাপ সহ্য করতে হয়।
সেই সাথে নেই মানসম্মত টয়লেট, নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, একই সাথে নেই নারীদের জন্য আলাদা শৌচাগার। একই সাথে যাত্রীদের কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়েই সড়কপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শহরজুড়েই রয়েছে যানবাহনের গাদাগাদি। দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে সময়ক্ষেপন করতে হচ্ছে। ফলে যাত্রীরা বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন।
অথচ নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন দেশের অন্যতম পুরোনো বাণিজ্যকেন্দ্রিক যোগাযোগ মাধ্যম হলেও অবকাঠামোর কোনো উন্নয়ন হয়নি। স্টেশনের ভেতর-বাইরে ছড়িয়ে থাকে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বর্ষায় জলাবদ্ধতার ডুবে থাকে রেললাইনের বিভিন্ন অংশ। এমনকি রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িও পানিবন্দি হয়ে পড়ে থাকে দীর্ঘদিন। পাশাপাশির ট্রেনের সংখ্যাও বাড়েনি।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ সালে ৩৭৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরুর পরিকল্পনায় ছিলো পাঁচটি নতুন স্টেশন ভবন ও প্ল্যাটফর্ম, একটি অফিস কাম স্টেশন ভবন, ১১টি ব্রিজ ও কালভার্ট, চারটি পথচারী সেতু, সীমানা প্রাচীর ও দুটি ওয়াশপিট নির্মাণ।
এরপর দীর্ঘ ৮ বছরেও এসব স্থাপনার একটিও পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়নি। কাজের ধীরগতির কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ চায়না পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না কাজ অসমাপ্ত রেখেই প্রকল্প ত্যাগ করে। সেই সময় পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
এদিকে প্রায় দুই বছর প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল আবারও নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। জিপিটি-স্ট্যান্ডার্ড জয়েন্ট ভেঞ্চারের সঙ্গে ৩১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়। নতুন চুক্তি আগের ঠিকাদারের করা নতুন ডুয়েলগেজ লাইনের কাজ শেষ করার পাশাপাশি বিদ্যামান মিটারগেজ লাইনকেও ডুয়েলগেজে রূপান্তর করে দেবে।
আর এসব কাজ বাস্তবায়নের ৩১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার একটি চুক্তি হয় এবং চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৮ মাসের মধ্যে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম বলেন, কাজ সম্পন্ন হলে যাত্রীসেবার মান বাড়বে, দুর্ভোগও কমে আসবে। পাশাপাশি শহরের যানজটও কমে আসবে। ছোট শহরে যানবাহনের গাদাগাদি থাকবে না। রেলপথে নারায়ণগঞ্জের সাথে দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ বাড়বে।







































আপনার মতামত লিখুন :