News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

হেরেছেন কাসেমী, হারেনি গিয়াসউদ্দিন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১১:২২ পিএম হেরেছেন কাসেমী, হারেনি গিয়াসউদ্দিন

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ভিন্নমাত্রার আলোচনা শুরু হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন এনসিপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন। তবে পরাজিত হয়েও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

নির্বাচনের আগে এক বক্তব্যে গিয়াস উদ্দিন দলীয় জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি মনির হোসাইন কাশেমীকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “যেভাবেই হোক কাশেমীকে ফেল করাতে হবে।” নির্বাচনের ফলাফল সেই বক্তব্যকেই যেন বাস্তবে রূপ দিয়েছে। কাশেমী পরাজিত হয়েছেন, যদিও গিয়াস নিজেও জয় পাননি। তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাশেমীর ভরাডুবির মধ্য দিয়ে গিয়াস নিজের অবস্থানকে দৃশ্যমান করতে পেরেছেন।

নির্বাচনের আগে থেকেই কাশেমীকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের মাঝে অর্থ বিতরণের ঘটনায় তাকে আর্থিক জরিমানা গুনতে হয়, যা রাজনৈতিক মহলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এর পাশাপাশি বিএনপির অভ্যন্তরেও তার প্রতি একাংশের অসন্তোষ ছিল বলে জানা যায়।

মাঠপর্যায়ে কাশেমীর সাংগঠনিক শক্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে না পারার পর দীর্ঘ সময় তাকে এলাকায় সক্রিয় দেখা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও দৃশ্যমান সামাজিক ভূমিকা না থাকায় ভোটারদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

এবারের নির্বাচনে প্রচারণা পর্বে কাশেমী মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত দুটি বড় জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। তবুও তৃণমূল পর্যায়ে তার ব্যক্তিগত প্রভাব দৃশ্যমান ছিল না বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর পাড়া-মহল্লায় লিফলেট ও পোস্টার দেখা গেলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়নি। অনেক ভোটারই প্রার্থী কিংবা তার প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতেন না।

অন্যদিকে, গিয়াস উদ্দিন নিজে নির্বাচনে জয়লাভ করতে না পারলেও তার পূর্বঘোষিত অবস্থান বাস্তবে প্রতিফলিত হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে তিনি আলোচনায় উঠে এসেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে এটি ভবিষ্যতের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই ফলাফল তাই শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীকরণ, সাংগঠনিক শক্তি এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।