‘যুবরাজ’ বলতে সাধারণত রাজ্যের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী বা রাজার বড় ছেলেকে বোঝায়। এটি ফরাসি ও ল্যাটিন থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রধান বা বিশিষ্ট। বাংলাদেশে এ শব্দটি কদাচিৎ নেতিবাচক কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে নারায়ণগঞ্জে এমন এক যুবরাজের পরিচয় মিলেছে যার সঙ্গে এ উপাধির রয়েছে দারুন মিল।
আবুল কাউসার আশা। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি দলের চারবারের এমপি আবুল কালামের একমাত্র ছেলে। বলা যায় একমাত্র উত্তরসূরী। অনেকেই তাকে কটাক্ষ করে ‘যুবরাজ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তবে তিনি যে আবুল কালামের যোগ্য উত্তরসূরী সেটা সবশেষ ১২ ফেব্রুয়ারী সংসদ নির্বাচনে প্রমাণ করেছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পরেও আবুল কালাম বন্দরের কদমরসূল দরগায় প্রথম বক্তব্য দেওয়ার সময়ে আশাকে পাশে রেখে চোখের নোনা জল ফেলেন। তবে সেটা আক্ষেপের প্রশ্ন থেকে না বরং, গর্ববোধের জায়গা থেকে। সেদিন তিনি স্পষ্ট করেছিলেন মনোনয়ন পাওয়ার জন্য যে পরিশ্রম আর কেন্দ্রে যোগাযোগটা প্রয়োজন ছিল তার সবটুকুই আশা করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে যুবরাজ যেখানে নেতিবাচক সেখানে কালামপুত্র সেটাকে ইতিবাচক তথা শব্দের প্রকৃত মর্মকে তুলে ধরেছেন। নির্বাচনের পুরো সময়টা জুড়ে তিনি আবুল কালামকে আগলে রেখেছেন। নির্বাচনের পুরো কলাকৌশল কখনো পর্দার আড়ালে থেকে কখনো বা প্রকাশ্য থেকে বাস্তবায়ন করেন। শহরে বড় বড় শো ডাউন, প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিদের পরাস্ত করার রণকৌশল সবকিছুই যেন করতে হয়েছে আশাকে। কারণ নির্বাচনের পুরো সময়টা জুড়ে একটি গ্রুপ নানা কায়দায় আবুল কালামকে পরাজিত করার মিশনে নামে। বিএনপির পরিচয় দেওয়া এসব নেতা ও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি কণ্ঠে ধানের শীষ স্লোগান দিলেও সন্ধ্যার পর বসতেন জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মানের দেওয়াল ঘড়ির ঘণ্টা বাজাতে আর গভীর রাতে শলা পরামর্শ করতেন স্বতন্ত্র মাকসুদের ফুটবল নিয়ে গোল দিতে। এসব ব্যক্তিরা চিহ্নিতও ছিলেন। কারা কোথায় কিভাবে কি ধরনের কাজ করছেন সব প্রকাশের পরেও কালাম মোটেও বিচলিত হয়নি। কাউকে বহিস্কারের চেষ্টাও করেনি। বরং সবকিছু নিরবে সয়ে নেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন আশা।
শহর ও বন্দর এলাকাতে এ সময়ে তরুণ নেতাদের মধ্যে আলোচিত আবুল কাউসার আশা। নিজ কর্মদক্ষতা আর নেতৃত্বে তিনি ক্রমশ সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, পারিবারিক রাজনীতির ঐতিহ্যগতভাবেই আগামীতেও নেতৃত্ব বিকশিত করার সক্ষমতা গড়ে উঠেছে আশার মধ্যে।
দাদা হাজী জালাল উদ্দিন আহাম্মেদ ছিলেন বিএনপির নারায়ণগঞ্জ শহর কমিটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে ১৯৭৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, আশা নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভিপি ছিলেন। পরবর্তীতে শহর ছাত্রদলের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগরের সভাপতি ছিলেন। তিনি এখন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর। মহানগর এলাকাতে তার একটি বড় সমর্থক আছে যারা দলের বাইরে গিয়েও আশা ভক্ত।

































আপনার মতামত লিখুন :