News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২

বন্দর ও নারায়ণগঞ্জ নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানালেন মাকসুদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম বন্দর ও নারায়ণগঞ্জ নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানালেন মাকসুদ

আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন নির্বাচনে বিজয়ী হলে নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরকে নিয়ে তার ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। শনিবার ৩১ জানুয়ারি সকালে বন্দর উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে প্রার্থীদের নিয়ে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় তিনি নিজের ইশতেহার তুলে ধরেন।

বিএনপি, ৯ দলীয় জোট, ইসলামী আন্দোলন, গণপরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন তার নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন।

মাকসুদ হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর একটি ঐতিহাসিক শিল্পনগরী। নদী, বন্দর, শিল্প কারখানা ও ঘনবসতিপূর্ণ জনপদ সব মিলিয়ে এ এলাকার সমস্যা যেমন জটিল, সম্ভাবনাও তেমনি বিশাল। নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর এলাকার বাস্তব চাহিদা, নাগরিক অধিকার ও টেকসই উন্নয়ণকে সামনে রেখে ভবিষ্যত পরিকল্পনা হিসেবে, সংসদ সদস্যের কার্যালয়কে খোলা নাগরিক সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে এলাকার স্বার্থে সংসদে ভূমিকা পালন।

বন্দর, কদমরসুল, চাষাঢ়া ও দেওভোগ সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট নিরসণের জন্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহরকে ফ্লাইওভারের আওতায় আনা ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীবান্ধব শহর ও ভ্রাম্যমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারী জায়গায় পৃথক মার্কেট গড়ে তোলা হবে।

মদনগঞ্জ টু মদনপুর সড়কটিকে ডিভাইডার সহ ৪ লেনে উন্নীতকরণ করা হবে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির বাস্তবায়ণ করা হবে। জনগণের সুপেয় পানির ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ শহরে একটি পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি পূর্নাঙ্গ মেডিকের কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের দাবি সংসদে জোড়ালোভাবে উত্থাপন করা হবে।

সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার মান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে।

বন্দর ও সদর এলাকায় কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করণ এবং এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে ভূমিকা পালন করা হবে। মাদক, কিশোর গ্যাং এবং ভূমিদস্যুতা প্রতিরোধে কঠোর ভূমিকা পালন করা হবে।

প্রত্যেকটি সরকারি হাসপাতালকে চিকিৎসা উপযোগী, চিকিৎসক ও বিনামূল্যে ঔষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরী চিকিৎসাক্ষেত্রকে আধুনিকায়ন করা হবে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিককে জনবান্ধব ক্লিনিকে পরিণত করা হবে।

চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাস এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। নারী ও শিশু নিরাপত্তায় স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।

শীতলক্ষ্যা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদ দখল ও দূষণমুক্ত করার জন্য সংসদীয় উদ্যোগ গৃহীত হবে। খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ ও সংস্কারে ভূমিকা পালন। সবুজায়ন ও পরিবেশবান্ধব শিল্পনীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া হবে।

সেই সাথে সনাতনধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ তীর্থস্থান ও মহাষ্টমী স্নানের স্থান লাঙ্গলবন্দে যে মেগাপ্রকল্প ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে সেটিকে পুনরায় চালু করে তীর্থস্থানটি পূনাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে।

বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিরেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি।

বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শিবানী সরকার এর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারায়ণগঞ্জ এর দায়িত্বে থানা মেজর আয়াজ, সহ উপজেলা প্রশসানের বিভিন্ন কর্মকর্তারা।