News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২

তারেক রহমানের দুই জনসভায় উজ্জীবিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম তারেক রহমানের দুই জনসভায় উজ্জীবিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দুটি জনসভা নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোন্দল, বিদ্রোহী প্রার্থী ও সমন্বয়হীনতায় জর্জরিত জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা এই দুই জনসভাকে ঘিরে ফের উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে তারেক রহমানের উপস্থিতিকে দলটির সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করলেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির জন্য পরিস্থিতি সহজ ছিল না। পাঁচটি সংসদীয় আসনের এই জেলায় বিএনপি চারটি আসনে দলীয় প্রার্থী এবং একটি আসনে জোটপ্রার্থী ঘোষণা করলেও মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই সামনে আসে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, বিদ্রোহী প্রার্থী ও নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতার চিত্র। অনেক আসনেই দলীয় প্রার্থীদের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ান নিজ দলের নেতারাই। কোথাও প্রকাশ্যে, কোথাও নীরবে বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘোষণা দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠে চাপে ফেলে।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২৩ জানুয়ারি ভোর ৪টার দিকে আড়াইহাজারের পাচরুখী এলাকায় তারেক রহমানের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ভোরের সেই কর্মসূচি হলেও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা। এই জনসভা থেকেই দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

এরপর ২৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে দ্বিতীয় দফায় নারায়ণগঞ্জে আসেন তারেক রহমান। এই কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। টানা দ্বিতীয় জনসভায় তারেক রহমান দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে নির্বাচনী মাঠে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং বিদ্রোহী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার নির্দেশনা দেন।

দুটি জনসভার আগে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ভেতরের চিত্র ছিল বেশ অস্বস্তিকর। মনোনয়ন ঘোষণার পর অনেক প্রার্থী প্রচারণায় নামার আগেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন নিজেদের দলের বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে। কোথাও সমঝোতা হলেও কোথাও তা উল্টো ক্ষোভ ও উত্তেজনার জন্ম দেয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ইতোমধ্যে পাঁচ নেতাকে বহিষ্কারও করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এতে তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে তারেক রহমানের দুই জনসভার পর দৃশ্যপট কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তি কাজ করছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। অনেক বিদ্রোহী নেতাও পরিস্থিতি বিবেচনায় অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির জন্য এই দুই জনসভা শুধু নির্বাচনী প্রচারণার অংশ নয়, বরং দলীয় ভাঙন ঠেকিয়ে সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। শিল্পাঞ্চল ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই জেলায় বিএনপির অবস্থান শক্ত করতে হলে দলীয় ঐক্যের বিকল্প নেই এই বার্তাই মূলত দিতে চেয়েছেন তারেক রহমান।

সব মিলিয়ে, বিদ্রোহ, বিভক্তি ও সমন্বয়হীনতার আবহে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের দুই জনসভা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই উজ্জীবন নির্বাচনের মাঠে কতটা বাস্তব রূপ পায় এবং দলীয় প্রার্থীরা অভ্যন্তরীণ সংকট কাটিয়ে ভোটের লড়াইয়ে কতটা শক্ত অবস্থান নিতে পারেন।