ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনৈতিক মাঠ ক্রমেই জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিনের চেনা মুখ, রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় বিএনপির নেতাদের বাদ দিয়ে জোটগত সমীকরণের কারণে এই আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাশেমীকে। ফলে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের অস্বস্তি ও চাপা ক্ষোভ।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই আসনের অধিকাংশ ভোটারই এখনো মনির হোসাইন কাশেমীকে চিনেন না। শুধু প্রার্থীই নয়, তার প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ও অনেক ভোটারের কাছে অপরিচিত। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও মাঠে তার তেমন কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি। পাড়া-মহল্লায় প্রচারণা চালালেও ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কিংবা সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।
বিএনপি জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলীয় স্বার্থে কিছু সংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী কাশেমীর পক্ষে মাঠে নামলেও তা অনেকটাই দায়সারা উপস্থিতি বলে মন্তব্য করছেন তৃণমূল নেতারা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ নীরব থাকায় ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী জানান, দীর্ঘদিন যারা এলাকায় রাজনীতি করেছেন, সুখ-দুঃখে মানুষের পাশে ছিলেন তাদের বাদ দিয়ে বাইরের একজন প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ায় কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়েছে।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তাদের প্রত্যাশা খুব পরিষ্কার এলাকা থেকে মাদক নির্মূল, জলাবদ্ধতা নিরসন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তব উন্নয়ন। একই সঙ্গে তারা চান এমন একজন জনপ্রতিনিধি, যাকে এমপি হওয়ার পরও এলাকায় নিয়মিত পাওয়া যাবে, যিনি সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন। কিন্তু মনির হোসাইন কাশেমীকে নিয়ে এই জায়গাতেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। ভোটারদের অভিযোগ, তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। নির্বাচিত হলে এলাকায় তাকে কতটা পাওয়া যাবে এ নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ।
একজন স্থানীয় ভোটার বলেন, “আমরা নাম শুনেছি, কিন্তু মানুষ হিসেবে তাকে চিনি না। এমপি হলে তাকে এলাকায় পাওয়া যাবে কিনা সেটাই তো বড় প্রশ্ন।” আরেক ভোটার বলেন, “ভোট তো উন্নয়নের জন্যই দিই। যাকে দেখিই না, সে কীভাবে আমাদের সমস্যার কথা জানবে?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে মনির হোসাইন কাশেমীর জন্য পরিস্থিতি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। স্থানীয়ভাবে তার নিজস্ব ভোটব্যাংক তুলনামূলকভাবে দুর্বল। তার ওপর একই আসনে বিএনপির একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ফলে জোট প্রার্থী হিসেবে তার ওপর চাপটা স্বাভাবিকভাবেই বেশি পড়ছে।
এদিকে প্রচারণা জোরদার করতে চেষ্টা চালাচ্ছে তার নির্বাচনী টিম। সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ বাড়ানো হলেও ভোটারদের আস্থা অর্জনে এখনো বড় কোনো সাফল্য আসেনি। রাজনৈতিক অঙ্গণে আলোচনা চলছে শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন বদলাতে না পারলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোট প্রার্থী মনির হোসাইন কাশেমীর জন্য নির্বাচনী লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পরিচিত মুখের অভাব, দুর্বল মাঠপর্যায়ের সংগঠন এবং ভোটারদের আস্থাহীনতা এই তিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই এগোতে হচ্ছে মনির হোসাইন কাশেমীকে। আর এই বাস্তবতায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনের ফলাফল কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে দিন দিন।


































আপনার মতামত লিখুন :