দলের সিদ্ধান্ত না মেনে প্রার্থী হওয়ায় ইতিমধ্যে বহিস্কার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ওইসব বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি তাদের অনুগামী বেশ কিছু নেতাও ইতোমধ্যে বহিস্কার হয়েছেন। তবে বিএনপি তাদেরকে ছেড়ে দিলেও অর্থাৎ বহিস্কার করলেও তারা ছাড়েনি। বিএনপি থেকে তাদেরকে বহিস্কার করা হলেও নির্বাচনী প্রচারণায় নিজেদেরকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়েই ভোট প্রার্থনা করছেন ওইসব বহিস্কৃতরা।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতারা। ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপির ও একটিতে জোটের প্রার্থী ঘোষণা দিলেও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ এমনকি মশাল মিছিল পর্যন্ত করে। গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীদের বিষয়টি চূড়ান্ত হলেও ৪টি আসনেই বিএনপির সাবেক এমপি ও জেলার শীর্ষ নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে তাদের প্রার্থীতা বহাল রাখেন। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দুলাল, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম এবং সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শিল্পপতি মোহাম্মদ শাহ আলম দলের সিদ্ধান্ত না মেনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল থেকে বহিস্কার করা হবে। এমন হুশিয়ারী দেয়া হলেও এসব বিএনপি নেতারা এমপি হওয়ার লোভে দলের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। যে কারণে ইতোমধ্যে তাদেরকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে যেসব বিএনপি নেতারা গাটছড়া বেঁধেছেন অথবা তাদের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন এমন অন্তত ২০ জন বিএনপি নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়াও বহিস্কারের তালিকায় রয়েছে আরো কয়েকজন বিএনপি নেতা।
এদিকে এসব বহিস্কৃত বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের গণসংযোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নিজেদেরকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়েই ভোট চাইছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্œ স্থানে প্রচারণার মাইকেও এসব বহিস্কৃত বিএনপি নেতাদের এখনো বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে ভোট চাইছেন। যা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।


































আপনার মতামত লিখুন :