News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২

বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনকারীদের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে দল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনকারীদের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে দল

আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের পর এবার তাদের পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন বিএনপি। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে ৪টি আসন থেকে দল ও জোট ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দুলাল, নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া মোহাম্মদ শাহআলমকে আগেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সেই সকল বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে যারা মাঠে নির্বাচনী কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে দলের হাইকমান্ড। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে একটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত ২ দিনে যুবদল ও বিএনপির ২৪জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার ২৮ জানুয়ারি একই অভিযোগে, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপনসহ চারজন নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন, বারদী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দুলু এবং নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান আপেল।

বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত অন্য এক বিবৃতিতে সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনরগাঁ থান বিএনপির ২০ নেতাকে দতল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, সহসভাপতি জিএম সাদরিল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য শামিম আহম্মেদ ঢালি, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আলী আইয়ুব, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ভূইয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মাসুদুজ্জামান মন্টু, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল প্রধান এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জামান মির্জা। সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন ও জিয়াউল ইসলাম চয়ন, সদস্য খন্দকার আবু জাফর, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি পনির হোসেন এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিকও বহিষ্কার হয়েছেন।

যদিও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা সিদ্ধিরগঞ্জের ১৪ ও সোনারগাঁয়ের ৬ জন নেতাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমের হয়ে কাজ করছিলেন বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই বহিষ্কার বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের হয়ে নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন তাদের জন্য একটি কঠোর বার্তা যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে কাউকে ছাড় নয়। দলের জন্য কেউ অপরিহার্য নয়।

তারা মনে করছেন, শুধু নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেই নয় এই সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে প্রতিটি আসনের ক্ষেত্রেই নেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও জোটের প্রার্থীকে মেনে না নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তকে অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে এবং তাকে সমর্থন করে যাচ্ছে বিএনপির কিছু পদধারী নেতারা তাদের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।