নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে নির্বাচন থেকে সড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। কিন্তু তিনি সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও ব্যালট পেপারে ঠিকই তার দলীয় প্রতীক দাড়িপাল্লা থেকে যাবে।
সেই সাথে ভোটের দিন দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পড়লে সেই ভোটগুলো তারই হবে। একই সাথে সেই ভোটে তিনি যদি জয়ী হয়ে যান তাহলে জয়ী হিসেবেই বিবেচিত হবেন। যদিও ভোটের দিনে এটা হওয়াটা একেবারেই কাকতালীয় ব্যপার।
জানা যায়, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২৫ জানুয়ারি বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মো. শাহাজানকে সমর্থন দিয়ে এই সড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মো. শাহাজানকে সমর্থন দিয়ে এই সড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি আমি ভোটের মাঠ থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছি। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হবেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান শিবলী। আমরা সকলে মিলে ঐকবদ্ধভাবে কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মইনুদ্দিন বলেন, এটা আমাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত; তাই আমরা নির্বাচন থেকে সরে গিয়েছি। যেহেতু ব্যালটে দাড়িপাল্লা প্রতিক থেকে যাবে এক্ষেত্রে জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে জনগণই সিদ্ধান্ত দিবে।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট তারিখে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। ফলে নির্বাচন থেকে সড়ে যাওয়া ঘোষণা দিলেও ব্যালট পেপারে তার দলীয় প্রতিক রয়ে যাবে। ব্যালট পেপার থেকে তার দলীয় প্রতীক সরানোর কোনো সুযোগ নেই।
সূত্র বলছে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির বিপরীতে একটি রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব হয়েছে। বিশেষ করে সকল ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপিকে মোকাবেলা করতে চাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনেও এই পক্ষটি বেশ শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে।
তবে একটি পক্ষ থেকে দুইটি রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় ভোটের লড়াই নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিলো। তারা পরিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় লেগে যায়।
তার আগে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনয়ন ঘোষিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন পরিবর্তন করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন দলীয় সাত মনোনয়ন প্রত্যাশী।
গত ১৮ নভেম্বরে দেয়া ওই আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ গিয়াস উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ১নং সহ-সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক।
বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতদের এই আবেদনেও বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল তাদের দলীয় প্রার্থী যাকে দিয়েছে সে স্থানীয় সুনামধন্য কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল ড. মোঃ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া। যার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে দলীয় বঞ্চিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরাই স্বীকৃতি দিয়েছেন জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ড. মোঃ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া যোগ্য প্রার্থী।
আর তার বিপরীতে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে রাখা হলে আসন হারানোর শঙ্কায় ছিলেন। তবে এবার সেই প্রার্থীকেই সরিয়ে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী শাহজানকে সমর্থন দিয়ে। যার সোনারগাঁ এলাকায় তেমন জনপ্রিয়তা নেই। সেই সাথে ড. মোঃ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়ার অনুসারীরাও এই বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেন না।


































আপনার মতামত লিখুন :