নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসীদের ফেরানোর পেছনে বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা জড়িত। নির্বাচনের পরে এসব সন্ত্রাসীদের এলাকায় থাকতে কোন ধরনের বাধা দেওয়া হবে না নিশ্চয়তা দেখিয়ে তাদের ফেরানো হয়েছে।
প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কোন নেতার আশ্রয়ে তারা এখন রয়েছেন। মূলত ফতুল্লা থানা বিএনপিতে এখন দুইজন প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন যারা মূলত সেখানকার রাজনীতির দন্ডমুন্ডের কর্তা। একজন থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু ও অপরজন সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। এ দুইজনের দিকেই অভিযোগের তীর এখন সকলের।

আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের এলাকায় ফিরে আসায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের কেউ কেউ আবার ক্ষমতাধর নেতাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করছেন। কেউ আবার বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর খেজুর গাছের ব্যানার ফেস্টুন সাটাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের এ প্রস্থানে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।
ছাত্র জনতার উপর প্রকাশ্য গুলি ছোড়া নারায়ণগঞ্জের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের সহোযোগি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইউপি সদস্য আব্দুল বাছেদ ওরফে বাছেদ মেম্বারকে আবারো এলাকাতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ আছে থানা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার সমঝোতায় তিনি এলাকাতে ফিরেছেন। তাকে পুলিশ আটক করবে না প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাছেদকে ফেরানো হয়, সঙ্গে শর্ত দেওয়া হয় যেন আসছে নির্বাচনে খেজুর গাছের পক্ষে কাজ করেন।

এর আগে ২৯ জুলাই বাছেদকে ফতুল্লা পোস্ট অফিস রোডস্থ ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষধ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। সে ফতুল্লা ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। ওই মামলায় কারাভোগ করে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও এলাকাতে দেখা যায়নি। পরে তাকে বিএনপির একজন নেতা এলাকাতে ফিরিয়ে আনেন।
স্থানীয়রা জানান, বাছেদ অয়ন ওসমানের অন্যতম সহযোগী এবং তারা বহু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সম্প্রতি একটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তারা। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন।
এছাড়া একই ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ হাসান সবুজ এলাকায় ফিরেছেন। তিনি ছাত্র জনতার বৈষম্যবিরোধী একাধিক মামলার আসামী। এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বিএনপি নেতার কৌশলে তিনি এলাকাতে ফিরেই খেজুর গাছের পক্ষে ফতুল্লার কোতালেরবাগ সহ আশপাশ এলাকাতে ব্যানার ফেস্টুন সাটিয়েছেন। অভিযোগ আছে থানা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা তাকে এলাকায় নিয়ে আসেন।
বিএনপির একাধিক কর্মী জানান, নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়া সহ অরাজকতা করতেই বিএনপির কেউ কেউ এসব সন্ত্রাসীদের এলাকাতে ফেরানোর কারণে দলের বদনাম হচ্ছে। সেই সঙ্গে সহিংশ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসী মীর সোহেল আলীর অনুসারীরাও এলাকাতে ফিরতে শুরু করেছে। তাদের অনেকেই এখন সক্রিয়।































আপনার মতামত লিখুন :