নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন নারী ভোটাররা। পাচঁটি আসনেই ৬’শ থেকে ১০ হাজার সংখ্যা ব্যবধানে নারী ভোটাররা। ফলে জয়-পরাজয়ের সমীকরণে তাদের ভূমিকাই এখন মুখ্য। বিএনপি, স্বতন্ত্র ও জামায়াতের প্রার্থীসহ অন্যান্য প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে নারী ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে সক্রিয় রয়েছেন। রাজনীতি ও ভোটের মাঠে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নারী ভোটার। নারী ভোটারদের দিকে এখন নজর প্রার্থীদের।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনে পুরুষ ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৯ জন ও নারী ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৩ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২০ জন। এদের মধ্যে একাংশ আওয়ামী লীগের ভোটার রয়েছেন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে কয়েক নেতা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না। তাই দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকার ভোট প্রয়োগ করবে না।
এবার জেন-জি ভোটারদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা রয়েছে অনেক। তাদের প্রথম ভোট আকৃষ্ট করতে ইতোমধ্যে বিএনপি, ১১ জোট ও ইসলামী আন্দোলন সহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের প্রার্থীরা আশ্বাস দিয়েছেন। নারী ভোটারদের ভোট নিজেদের পক্ষে নিতে প্রধান তিন প্রার্থী ভোট প্রার্থনায় মাঠে নামিয়েছে নারী কর্মী। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি নানা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।
একাধিক প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসি ঘোষণার আগে থেকে নারী ভোটারদের কাছ থেকে নিজেদের প্রতীকে ভোট দেয়ার আহবান জানিয়েছিলাম। তফসিল ঘোষণা পর ২১ জানুয়ারি থেকে প্রতীক নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছে প্রার্থীরা। এদের ছাড়াও নারী-পুরুষদের একাধিক টিম প্রার্থীদের মার্কা ভোট দেয়ার আহবান জানানো হয়েছে। জেন-জি ভোটারদের মধ্যে নতুন ভাষ্য জানা গেছে, সমাজের ভদ্র মানুষকে ভোট দিতে ইচ্ছুক। দল নয় উন্নয়ন করবে এমন ব্যক্তি জয়ী করতে চায়।
অন্যদিকে বিএনপি, ১১ জোট ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের সমর্থকরা ঘরে ঘরে গিয়ে নারী ও জেন-জিদের কাছে ভোট চেয়েছেন। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আলী আছগারের পক্ষে মাঠে নেমেছেন জামায়াতের নারী নেতাকর্মীরা। তারাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট প্রার্থনা করছেন। এবারের নির্বাচনে নারী ভোটার শুধু সংখ্যাতে নয়, শক্তিতেও কম নয়। গ্রাম থেকে শহর, কৃষিশ্রমিক থেকে উদ্যোক্তা-সব শ্রেণির নারীই চান এমন প্রতিনিধি, যিনি বৈষম্য ছাড়াই নারীর উন্নয়নে কাজ করবেন এবং ভোটের পরেও পাশে থাকবেন।


































আপনার মতামত লিখুন :