আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতেই হেভিওয়েট জামায়াত ও জামায়াত সমর্থিত জোট প্রার্থীদের অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গণে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। প্রার্থী ঘোষণার পর ততটা আলোচনায় না থাকলেও প্রচার প্রচারণা শেষে জামায়াতকে খাটো করে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না কেউই। এমনকি একাধিক আসনে জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। যা এই জেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ ঐতিহ্যগতভাবে একটি স্পর্শকাতর ও কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা। শিল্পাঞ্চল, শ্রমিক ভোট, ধর্মীয় ভোটব্যাংক ও নগর গ্রামীণ মিশ্র জনসংখ্যার কারণে এখানে যে কোনো জোটের প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হয়। এমন বাস্তবতায় চারটি আসনে জামায়াত ও জোটভুক্ত প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করছে। বিএনপি নেতারা হেসে খেলে নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হবার কথা ভাবলেও এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।
বিএনপি এবং জামায়াত উভয় দলের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে জানা গেছে। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি এগিয়ে আছে। জামায়াত নেই ধারে কাছেও। অন্যদিকে ২, ৩, ৪ ও ৫ আসনে জামায়াত এবং জামায়াত-সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা এবং জনসমর্থন নিয়ে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। দলগুলোর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা এবং ধর্মভিত্তিক ভোট ব্যাংকের ওপর ভর করে প্রচারণা শুরু করেছেন। সেই সাথে আছে ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির বিতর্কিত কর্মকান্ড। যা সাধারণ মানুষকে তাদের দিকে আকৃষ্ট করছে। বিএনপির উপর বিরক্ত হওয়া বড় একটি অংশ বেছে নিবে তাদের।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থীতা নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। এখানে একাধিক রাজনৈতিক পক্ষ সক্রিয় থাকলেও জামায়াত জোটের শক্ত অবস্থান ভোটের অঙ্ককে জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং আসনেও জোটের দুজন প্রার্থী ভাসমান ভোট ব্যাংককে কেন্দ্র করে কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে তারা পাচ্ছে জামায়াতের নির্ধারিত ভোট। সেই সাথে পাচ্ছে জামায়াত সমর্থন না করলেও অপেক্ষাকৃত ভালো প্রার্থী চান এমন ব্যক্তিদের ভোট।
তবে পুরো চিত্র একমুখী নয়। জেলায় বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যাও কম নয়। বিভিন্ন দলে মনোনয়নবঞ্চিত একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় ভোট বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে করে শক্তিশালী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তের হিসাব নিকাশ বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই এবার দল নয়, ব্যক্তি ও এলাকার উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে ধর্মীয় ও সাংগঠনিক প্রভাবও ভোটের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনে জামায়াত ও জামায়াত জোটের হেভিওয়েট প্রার্থীদের উপস্থিতি নির্বাচনী মাঠকে জমজমাট করে তুলেছে।


































আপনার মতামত লিখুন :