News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০১ মার্চ, ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

কাসেমী দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সরব আল আমিন একাই লড়ছেন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম কাসেমী দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সরব আল আমিন একাই লড়ছেন

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যু ও আওয়ামী পুনর্বাসন বিরোধী জনতার রায় এখনো আলোচনার কেন্দ্রে। নির্বাচনের আগে ও পরে ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ কমেনি। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ইস্যু ছিল রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে জয় পেয়েছেন জামায়াত এনসিপি জোটের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন। যদিও নির্বাচনী প্রচারণা জুড়ে সবচেয়ে বেশী দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মনির হোসেন কাসেমী। যার বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিটি হেভিওয়েট প্রার্থী অভিযোগ তুলেছেন।

বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি নির্বাচনের মাঠে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে বিতর্কিত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের পাশে রেখে প্রচারণা চালান। তার নির্বাচনী সভা-মিছিলে চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু ও বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা। এছাড়া নির্বাচনের আগের দিনেও কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করেছে তার লোকজন ও অনুসারীরা। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি।

এনসিপির প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন নির্বাচনকালীন অভিযোগ করেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের মাধ্যমে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ তোলেন অন্যান্য এমপি প্রার্থী শাহ আলম, গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী এবং ইসমাইল হোসেন কাউসার। প্রত্যেকের অভিযোগ ছিলো কাসেমীর নেতাকর্মীদের দিকে ইঙ্গিত করে। ঘোষণা দেন, যিনিই নির্বাচিত হবেন তাকে সর্বোচ্চ সহযোগীতা করা হবে। এই অঞ্চলের চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, ভুমিদস্যুতা সহ আওয়ামী পুনর্বাসন রোধে একযোগে কাজ করবেন।

কিন্তু নির্বাচনের পরে দেখা গেছে একাই লড়ছেন আবদুল্লাহ আল আমিন। প্রচুর প্রভাব বিস্তার করার চেষতা করেও ভোটের ফলাফলে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। বিপুল ভোটে জয়ী হন আবদুল্লাহ আল আমিন। ফল ঘোষণার পর স্থানীয়ভাবে এটিকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনতার রায় হিসেবে আখ্যা দেন তার সমর্থকরা। তবে এরপরেই অন্যান্য এমপি প্রার্থীরা নীরব হয়ে যান। নির্বাচনে জয় পরাজয় মেনে নিয়ে পাশে থাকার ঘোষনা দিলেও কার্যত তারা পিছিয়ে গেছেন রাজনীতির মাঠ থেকে।

অভিযোগ উঠেছে, পরাজয়ের পরও কাসেমী বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনও চিহ্নিত বিতর্কিত ব্যক্তি ও নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হওয়া চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে সভা সমাবেশ ও নানান অনুষ্ঠান করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নির্বাচিত এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন ও তার অনুয়ারীদের নানান ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে তাকে খাটো করার চেষ্টায় লিপ্ত। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নাজেহাল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ আল আমিনের অনুয়ারীরদের। অন্যদিকে আল আমিনও তাকে ছেড়ে কথা বলেননি।

সম্প্রতি মনির কাসেমী বলেন, আবদুল্লাহ আল আমিন যদি আকাবাকা হয়ে চলেন তাহলে কিভাবে সোজা করতে হয় সেটা আমাদের জানা আছে। আমরা সোজা করে দিব।‘ তার এই বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া তৈরী হয় এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেই কথার জবাবে আল আমিন বলেন, ‘আপনাদের বলতে চাই, লাগাইছেন তেঁতুল গাছ, আশা করেন খেজুর পাইবেন। আপনার আশেপাশে চাঁদাবাজ নিয়ে, সন্ত্রাসীদের নিয়ে, নৌকার চেয়ারম্যান নিয়ে, সন্ত্রাসীদের নিয়ে, গুন্ডাদের নিয়ে আপনি আবার বড় বড় কথা বলেন। তাহলে নারায়ণগঞ্জের মানুষ যেভাবে আগে প্রত্যাখ্যান করেছে, তেমনি আবার প্রত্যাখ্যান করবে ইনশাআল্লাহ।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের আগে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানে একাধিক প্রার্থী একযোগে সরব থাকলেও, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দুর্বিত্তায়ন ঠেকাতে একাই সক্রিয় রয়েছেন এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন। ফতুল্লা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চাঁদাবাজি, দখল ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ জোরদারের দাবি তুলেছেন তিনি। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি বলেন, “জনগণ আমাকে সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গড়ার দায়িত্ব দিয়েছে। আমি সেই অঙ্গীকার রক্ষা করব।সেই সাথে তাকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে কাসেমী এবং তার সাথে থাকা নানান বিতর্কিত ব্যক্তিদের। তবে পরিচ্ছন্ন ইমেজের এমপির পাশে বাকি সকলের সহযোগীতা থাকলে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনা সম্ভব।