News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

রূপগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষ, মহাসড়ক


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম রূপগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষ, মহাসড়ক

বেতন বকেয়া, শ্রমিক নির্যাতন ও ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকরা অবরোধ কর্মসূচি পালন শুরু করে। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মাঝে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক, পুলিশ, সাংবাদিক, পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

উত্তেজিত শ্রমিকদের অবরোধে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা। আটকা পরে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স।

জানা যায়, শনিবার সকাল ৮ টায় উপজেলার মইকুলি এলাকার বি ব্রাদার্স কম্পানি লিমিটেড নামে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ককেয়া বেতন, শ্রমিক নির্যাতন-ছাঁটাই নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, বি ব্রাদার্স কম্পানি লিমিটেড নামের পোশাক কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মচারী কাজ করেন। গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন ভাতার দাবি জানিয়ে আসছেন শ্রমিকরা। মালিকপক্ষ দেবে দিচ্ছি করে বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের ঘুরাচ্ছেন। তারা প্রতিবাদকারীদের আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছেন এবং শ্রমিক ছাঁটাই করছেন।

এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই শ্রমিক ও মালিকপক্ষ বিরোধ চলে আসছে।

শনিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজে যোগদান না করে দাবি-দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। বাকি শ্রমিকদের কারখানা কর্তৃপক্ষ ভেতরেই আটকে রাখেন। এ নিয়ে কারখানার ভেতরে ও বাইরের শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে বাহিরে থাকা শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।

সূত্র আরো জানায়, শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে মালিকপক্ষ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। পরে শ্রমিকরা বের হয়ে তাদের মধ্যে আরো বেশি অসন্তোষ দেখা দেয় এবং উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

শ্রমিকরা আরো অভিযোগ করেন, কারখানার ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং সেকশনের শ্রমিক সজীব মিয়া প্রতিবাদ করায় তাকে বেঁধড়ক মারধর করে মালিকপক্ষের লোকজন। এ ছাড়া যারা প্রতিবাদ করতেন তাদেরকে নোটিশ ছাড়াই ছাঁটাই করছে। বকেয়া বেতন ভাতা না পেয়ে এই রমজানে রোজা রেখে তারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। মুদি দোকানিরা এবং বাড়িওয়ালারা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। এমন অবস্থায় শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বেলা সাড়ে ১০টার দিকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে সমঝোতার চেষ্টায় বসেন বেশ কয়েকবার।

দুপুর পৌনে ১টার দিকে রূপগঞ্জ ওসি সাবজেল হোসেনসহ একদল পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরাতে না পেরে লাঠিচার্জ করে। এক পর্যায়ে শ্রমিক পুলিশ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। উত্তেজিত শ্রমিকরা সড়কে আটকা পড়া বাস-ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় টিয়ারশেল ও ইট পাটকেলের আঘাতে শ্রমিক, পুলিশ, পথচারী, সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন হয়েছেন।

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কোনো প্রকার কথা বলতে রাজি হননি। এ ছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।