News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে ২৪ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে ২৪ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

১৩ বছরেও মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়ায় দেশের ২৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারী এক বিবৃতি প্রদান করেছেন। তাঁরা নতুন সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, হস্তক্ষেপ ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, শিক্ষাবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাষ্টি ডা. সারোয়ার আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আহমেদ কামাল, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, মানবাধিকার সংগঠক সুলতানা কামাল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাষ্টি লেখক-গবেষক মফিদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যপক শফি আহমেদ, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আলোকচিত্রী মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম, মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, আবৃত্তি শিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, শিশু সংগঠক ডা. লেনিন চৌধুরী, কবি সাংবাদিক সোহরাব হাসান, শিল্পী কফিল আহমেদ, আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাট্যকর্মী ড. সামিনা লুৎফা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আ-আল মামুন, আইনজীবী ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, শিল্পী অরূপ রাহী, শিল্পী কৃষ্ণকলি ইসলাম ও শিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান।         

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে। সে বছর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে দুইজন ঘাতক ত্বকী হত্যার বিশদ বর্ণনা দেয়। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব ত্বকীকে কেন, কখন, কোথায়, কারা, কিভাবে হত্যা করেছে তার বিস্তারিত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। কিন্তু তৎকালীন সরকার প্রধানের ইচ্ছাতে সে বিচার প্রক্রিয়া সাড়ে এগারো বছর বন্ধ হয়ে থাকে।

২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে কিছু তৎপরতা দেখালেও তাদের দেড় বছরের শাসনামলে বিচারের উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয় নাই। আমরা সংবাদ মাধ্যমে জানলাম মামলার ১০১টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়েনি। ইতোমধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক সরকার গঠিত হয়েছে।

ত্বকী-হত্যা দেশব্যাপী যে প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, তা সমাজের মৌলিক অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ত্বকী হত্যার ১৩ বছরের মাথায় আমরা দ্রুত বিচারের দাবিতে নতুন সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমরা সুবিচার আশা করছি। আর কাল বিলম্ব না করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়ে এ বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এই বিচার সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে নতুন সরকার দেশের বিচার বিভাগ ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের দীর্ঘ দিনেরর হতাশা ও অনাস্থার অবসান ঘটাবার সক্রিয় উদ্যোগ নেবে বলেও আমরা আশা করছি। সুবিচার পাওয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা মনে করি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা গণতন্ত্র, সাম্য, অগ্রগতি, মানবিক মর্যাদা ও সভ্যতার মানদণ্ড। যে কোন মূল্যে একে নিশ্চিৎ করতে হবে।