নির্বাচনের প্রচারণায় পাশে ছিল চিহ্নিত চাঁদাবাজ, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী, ছাত্র জনতার উপর গুলি করা ব্যক্তিরা। সে কারণে ফতুল্লাবাসী কার্যত লাল কার্ড দেখিয়েছেন বিএনপির জোট প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীকে। এবার তিনি তাকে পরাজিত করা এনপিসির এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে উপদেশ দিয়েছেন।
ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের ইফতারে কাসেমী বলেন, যদি আমরা দায় দায়িত্ব নেই যে আমাদের এলাকাতে চাঁদাবাজী হবে না, মাদক বিক্রি হবে না তাহলে ৬ মাসেই পরিস্থিতি বদলে যাবে। রোজা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। এবারের রোজা যেন এমনি এমনি চলে না যায়। আমার সমাজকে পরিশুদ্ধ করার পণ যদি করতে পারি, এ আব্দুল্লাহ আল আমিনকে সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজ পরিশুদ্ধ করে নিতে পারবো। যদি তিনি আকাঁবাকাঁ চলেন, আর আমাদেরকে নিয়ে সুন্দর করে চলেন তাহলে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। যদি আকাঁবাকাঁভাবে চলেন তাহলে কিন্তু সিধা করার কারিগর আমরাই।
তিনি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন অভিযুক্ত অনেকেই তার পাশেই বসা ছিলেন। তাদেরকে বসিয়ে রেখেই তিনি নানা ধরনের উপদেশমূলক বক্তব্য দেন যা অনেকটা প্রবাদ বাক্য ভূতের মুখে রাম নামের মত।
নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে চমক দেখিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। ভোট পড়েছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮ ভোটার। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ১৭৭ টি ভোটকেন্দ্রে আল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি জোটের মুফতি মনির কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৩৮ ভোট। তবে আব্দুল্লাহ আল আমিনের ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করাটা তার জন্য সহজ ছিলো না। নানা রকমের প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই ভোটের মাঠে লড়তে হয়েছে তাকে। তরুণ বয়সেই তার এই জয় নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস হয়ে থাকবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তখন আন্দোলনকারীদের উপর হামলা ও গুলি ছোড়ার নির্দেশ দেন কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। নির্বাচনের প্রচারণায় ও ইফতারে তাকে দেখা গেছে কাসেমীর পাশে। কাসেমীর পাশে দেখা গেছে বহুল আলোচিত জোড়া খুন মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী শহীদকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহীদ কাশিপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইটবালু ব্যবসা, ড্রেজার কার্যক্রম ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকান্ড পরিচালনায় তার আলাদা ক্যাডার বাহিনী রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। মনির হোসাইন কাসেমীর পাশে দেখা গেছে গিরিধারার একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যুকে। বিতর্কিত ওই ব্যক্তির নাম শাহাদাত চৌধুরী ওরফে শাহাদাত পুলিশ। গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে তিনি কারাভোগও করেছেন। কাসেমীকে ঘিরে রাখেন ফেরদাউসুর রহমান। তিনি শামীম ওসমানের অতি ঘনিষ্ঠ সেটা প্রকাশ্য। নিয়মিত শামীম ওসমানের সঙ্গে তিনি দেখা করতেন। শামীম ওসমানের অন্যতম ক্যাডার শাহ নিজামের নম পার্কের ডেরাতে নিয়মিত দেখা যেত তাকে। কাসেমীর পাশে দেখা গেছে শহরের চিহ্নিত অস্ত্রবাজ রাসেলকে। গত বছর শহরে প্রকাশ্য গুলি ছুড়েছিল এ সন্ত্রাসী।
এদিকে ফতুল্লার আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসীদের ফেরানো হয়েছে। থানা বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার আশ্রয়ে আওয়ামী লীগের দুর্ধর্ষ প্রকৃতির নেতাকর্মীরা ফিরতে শুরু করেছে। এতে করে এলাকাতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের কেউ কেউ আবার ক্ষমতাধর নেতাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করছেন। কেউ আবার বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর খেজুর গাছের ব্যানার ফেস্টুন সাটিয়েছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের এ প্রস্থানে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্র জনতার উপর প্রকাশ্য গুলি ছোড়া নারায়ণগঞ্জের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের সহোযোগি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইউপি সদস্য আব্দুল বাছেদ ওরফে বাছেদ মেম্বারকে আবারো এলাকাতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ আছে থানা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার সমঝোতায় তিনি এলাকাতে ফিরেছেন।


































আপনার মতামত লিখুন :