News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

বাবু ও শামীম প্রকাশ্যে, বাকি ২ এমপি আত্মগোপনে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম বাবু ও শামীম প্রকাশ্যে, বাকি ২ এমপি আত্মগোপনে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতেও। দীর্ঘ সময়ের নীরবতা কাটিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হতে শুরু করলেও জেলার সাবেক সংসদ সদস্যদের বেশিরভাগই এখনো প্রকাশ্যে আসেননি। বরং তাদের অনেকেই দেশ-বিদেশে অবস্থান করছেন কিংবা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একসময় প্রভাবশালী ছিলেন জেলার পাঁচটি আসনের সাবেক সংসদ সদস্যরা। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, দলীয় কর্মসূচি কিংবা স্থানীয় রাজনীতির নানা ইস্যুতে তাদের উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে জেলার সাবেক এমপিদের মধ্যে একজন কারাগারে, তিনজন প্রকাশ্যে নেই এবং একজন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসেন। নিজের জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সমর্থক ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আবারও যেন মানুষের সেবা করার সুযোগ পান সেজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। তার এই বার্তা ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা আলোচনারও সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ২৪ অক্টোবর রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও নাশকতাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি শামীম ওসমানও দেশের বাইরে আলোচনায়। তাকে দুবাই, ভারত ও আমেরিকাতে দেখা েেগছে। সবশেষ দেখা গেছে সৌদি আরেব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে ছবি ভাসছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতও জনসমক্ষে নেই। তিনি কোথায় অবস্থান করছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি সেলিম ওসমান দেশেই কোথাও আত্মগোপনে আছেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে তার ঘনিষ্ঠরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেরে সারা দেশে উত্তেজনা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক অবস্থানও দ্রুত বদলে যায়। সেই সময় থেকেই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা হঠাৎ করেই আড়ালে চলে যান। সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের অনেকে এখনো প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফেরেননি।

এদিকে জেলার সাধারণ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ বর্তমানে মামলার চাপ ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই এলাকা ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন। আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

তৃণমূলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আন্দোলনের সময়কার ঘটনাগুলোর দায়ভার এখন মূলত মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপরই এসে পড়েছে। তাদের দাবি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে যারা ছিলেন তারা এখন আড়ালে থাকলেও সাধারণ নেতাকর্মীদেরই আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

একসময় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সাবেক এই এমপিদের প্রভাব ছিল অত্যন্ত দৃশ্যমান। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে দলীয় কার্যক্রম সব ক্ষেত্রেই তাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী রাজনীতির ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগও বহুবার উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে।

কিন্তু সময়ের পালাবদলে সেই দাপুটে রাজনীতি এখন অনেকটাই স্তিমিত। দীর্ঘ নীরবতা এবং প্রকাশ্যে আত্মসমালোচনার অভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বের এই নীরবতা দলীয় কাঠামোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

একদিকে মামলার ভয়ে দিশেহারা তৃণমূল কর্মীরা, অন্যদিকে শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি এই দ্বৈত বাস্তবতা নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। ফলে আন্দোলনের সময়কার ঘটনাগুলোর বিচার ও রাজনৈতিক দায় নির্ধারণের দাবি এখনো স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়ে গেছে।