নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নাই দীর্ঘদিন, এ অবস্থায় সাবেক কাউন্সিলরদের সচিবেরাই মূলত বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদান করে চলেছে। নাগরিক সনদপত্র, জন্ম নিবন্ধন সহ বিভিন্ন নাগরিক সেবায় তাদেরকে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়। বেশীরভাগ সচিব এখন অফিস করছেন সাবেক কাউন্সিলরদের রেখে দেওয়া অফিসেই। তবে কাউন্সিলরদের কোন কাজ নেই, তারা এখন সাবেক। এবার এসব সচিবদের বাদ দেওয়ার গুঞ্জন উঠছে সিটি করপোরেশনে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থায় নতুন করে সচিব নিয়োগ দেওয়া হলে নাগরিক সেবা প্রচন্ডভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। ঝুঁকিতে থাকবেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকও। কারণ নতুন সচিবদের প্রশিক্ষিত করার ফাঁকে কোন অনিয়ম হলে এর দায় প্রশাসককেই বহন করতে হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অপসারণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে। এরপর অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবকে পালাক্রমে প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হলেও তারা সপ্তাহে মাত্র দুদিন নগর ভবনে অফিস করতেন। অন্যদিকে ২৭টি ওয়ার্ডের সংরক্ষিতসহ ৩৬ জন কাউন্সিলর অপসারিত হওয়ায় ব্যাহত হয় ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সেবা। তখন সিটি করপোরেশন হতে এসব ওয়ার্ড দেখভাল করতে আলাদা একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়।
ওই অবস্থায় ২৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সচিবদের উপর পরে গুরু দায়িত্ব। কাউন্সিলররা না থাকলেও মূলত তাদের পরামর্শে চলতে থাকেন সচিবেরা। তাদের মাধ্যমেই জন্ম-মৃত্যু সনদসহ নাগরিক বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম প্রদান করা হয়। এলাকার ছোটখাটো সমস্যাও দেখতে হয় সচিবদের।
এরই মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডের বেশীরভাগ সচিবের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। ফলে তাদের নখদর্পনে রয়েছে নিজ নিজ ওয়ার্ড। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে ওইসব সচিবদের বাদ দিতে সিটি করপোরেশন উদ্যোগী হলে উচ্চ আদালতে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। ডিসেম্বরের শেষে উচ্চ আদালত সচিবদের চাকরি বাতিল না করতে ৬ মাসের একটি স্থগিতাদেশ জারি করে। সেটা এখনো বলবৎ রয়েছে।
কয়েকজন সচিব জানান, আমরা শুনতে পাচ্ছি শহরের অনেক সচিব পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে এ সিদ্ধান্ত আসলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরতে পারে নাগরিক সেবা। কারণ আমাদের গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে প্রচুর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নতুনেরা আসলে বিষয়টি হিতে বিপরীত হতে পারে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ২২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৫টি সিটি করপোরেশনের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনেও নিয়োগ দেয়া হয় নতুন প্রশাসক। এতে নাগরিক সেবায় কিছুটা গতি ফিরবে বলে প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির মাধ্যমে সব এলাকায় উন্নয়নের কাজ সচল করা হবে।’




































আপনার মতামত লিখুন :