নারায়ণগঞ্জ শহরে বিএনপির পদধারী না হয়েও দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খান। দেওভোগ অঞ্চলে বেড়ে ওঠা এই নেতা এখন এই এলাকার অলিখিত অভিভাবক। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতারা জাকির খানের সাথে এখনও লিয়াজো করে চলেন। তবে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগেই দিনে দিনে সক্রিয় হয়ে উঠছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিরা। একের পর এক ঘটনা ঘটার পর অবাক হচ্ছেন অনেকেই। প্রশ্ন তুলেছেন, জাকির খানের এলাকায় কিভাবে এত সক্রিয় হয়ে উঠছে পলাতক আওয়ামী লীগ?
বিএনপি ক্ষমতা নেয়ার পরদিনই নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নম্বর রেলগেইট এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ব্যানার টানিয়ে স্লোগান দেয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। প্রকাশ্যে এমন দুঃসাহস দেখানোর ঘটনায় বিষ্ময় প্রকাশ করেন অনেকেই। তবে চিহ্নিত সেই স্লোগানদাতাদের মধ্যে একজনকে আটক করে জাকির খানের অনুসারীরা মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই স্লোগান দেয়া ব্যক্তিরা দেওভোগ অঞ্চলের আওয়ামী লীগ নেতা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের অনুসারী বলে জানা যায়।
শুধু আনোয়ার হোসেন একা নয়। এই দেওভোগে ছাত্রলীগ নেতাদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে হুমকি ধামকি দিয়ে বেড়াচ্ছে এই অঞ্চলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ঘুরে বেড়াচ্ছে দেওভোগে প্রতিনিয়ত। জাকির খানের নেতাকর্মীরা যেন দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। যেই কারণে একের পর এক কর্মসূচী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েও দেওভোগে দাপিয়ে বেড়াতে পারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মিরা। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের সেইফ জোন হিসেবে পরিচিত হয়েছে দেওভোগ অঞ্চল।
সবশেষ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাফায়েত আলম সানি ৮ মার্চ দলীয় কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টানিয়ে ইফতার বিতরণ করেন। সেই ভিডিও প্রকাশ করে প্রচার করেছেন দলীয় পেইজে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য এসব কর্মসূচী দেখেও নীরব ভুমিকায় আছে বিএনপি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেওভোগের বাসিন্দা হওয়ায় সহজেই পাড় পেয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করছেন অনেকেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাষাঢ়া কেন্দ্রীক আওয়ামী লীগ নেতারা মূলত ওসমান পরিবারের অনুসারী। রাতের অন্ধকারে কিছু পোস্টার লাগানো আর শীতলক্ষ্যা ৩য় সেতুতে লেখালেখি ছাড়া তেমন কিছু করার সাহস দেখাতে পারেনি তারা। অন্যদিকে দেওভোগ কেন্দ্রীক আওয়ামী লীগ নেতারা প্রকাশ্যে দলীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে কর্মসূচী পালন করে চলে যায়। দেওভোগে জাকির খানের মত নেতা থাকলেও তারা সেসব তোয়াক্কা করে না। সব মিলিয়ে দেওভোগ হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের জন্য সেইফ জোন।



































আপনার মতামত লিখুন :