সৌদি বাদশার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য উপহার স্বরূপ পাঠানো খেজুরের বক্স নিয়ে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে যার সূত্রপাত কুমিল্লার এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ শুরু করলেও নারায়ণগঞ্জে আলোচনার জন্ম দেন এনসিপির এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন। এরপরেই জেলাজুড়ে তোলপাড় তৈরী হয় খেজুর নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকার এমপিদের কাছে প্রশ্ন রাখতে শুরু করেন, বরাদ্ধের খেজুর কোথায় বন্টন করা হয়েছে?
জানা গেছে নারায়ণগঞ্জ জেলার জন্য ১০১ কার্টন খেজুর বরাদ্দ করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৪ কার্টন, সোনারগাঁয়ে ২০ কার্টন, আড়াইহাজারে ১৬ কার্টন, বন্দরে ৭ কার্টন, রূপগঞ্জে ২৪ কার্টন দেয়া হয়েছে। প্রতিটি কার্টনে ৮ টি করে প্যাকেট রয়েছে।
বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন তার নিজ উপজেলা তথা নারায়ণগঞ্জ সদরের জন্য আসা ৩৪ কার্টুন খেজুর কোথায় কোথায় বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে সেই তালিকা উন্মুক্ত করে দেন। এর ফলে সেইসব এলাকার বাসিন্দারা জানতে পারেন, সৌদি আরব থেকে উপহার আসা এসব খেজুর কারা পেতে যাচ্ছেন। এই তালিকা প্রকাশের পরপরেই প্রশংসা পেতে থাকেন আল আমিন। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে প্রথম কোন এমপি এভাবে জনগণের জন্য বরাদ্দ আসা কোন পন্যের বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ করেছেন। স্বচ্ছতার এমন চিত্র দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তারা।
প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায় ৩৪ কার্টনে মোট ২৭২ টি খেজুরের প্যাকেট রয়েছে। প্রায় ১১৭ টি খাতে ভাগ করা হয়েছে। শতাধিক মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে খেজুর। তার এই খেজুরের তালিকা প্রকাশ হতেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। বিএনপি সহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরাও এটি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন অন্যান্য আসনে বরাদ্দ হওয়া খেজুর কোথায় বন্টন করা হয়েছে তা প্রকাশ করা হোক। কারন সকলেই চান, এমপি হবেন জনগনের কাছে স্বচ্ছ।
তবে কয়েকজনকে নেতিবাচক মন্তব্যও করতে দেখা গেছে। যদিও সেগুলো প্রশংসার ভিড়ে স্থান পায়নি। অধিকাংশ বাসিন্দারা বলছেন, সরকারকে যে সৌদি আরব থেকে খেজুর উপহার দেয়া হয় তা তারা জানতেনই না। এবারই প্রথম আবদুল্লাহ আল আমিনের কারনে জানতে পেরেছেন যে সৌদি থেকে খেজুর বাংলাদেশে আসে এবং তা মাঠ পর্যায়ে বন্টন করা হয়। বিগত সময়ে এগুলো জানা ছিলো অসম্ভব ব্যাপার।
আল আমিন তালিকা প্রকাশ করার পরপরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় বইতে থাকে। অনেকে সাধুবাদ জানান, আবার অনেকে অপরাপর এমপিদের কাছে জানতে চান। জবাবদিহি চাওয়া শুরু করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের এমপি আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও তার ছেলে আবুল কাউসার আশা তার ব্যক্তিগত পেইজ থেকে বন্দর উপজেলার জন্য বরাদ্দ হওয়া খেজুরের তালিকা প্রকাশ করেন। যেখানে দেখা যায়, বন্দরের ১৮ টি মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠানে ৫৬ প্যাকেট খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। তার এই উন্মুক্ত তালিকা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতাকর্মী ও অনুসারীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্যাসিবাদী আমলে দেশজুড়ে চলেছে লুটপাটের রাজনীতি। ৫ আগস্টের পর মানুষ যেই পরিবর্তন দেখতে চেয়েছে সেটাই পেয়েছে এবার। তরুনদের হাত ধরে অনেক অজানা তথ্য সামনে চলে আসছে। এই পরিবর্তনই চেয়েছিলেন ভোটাররা। যেই কারনে অনেক সামান্য বরাদ্দ জনসম্মুখে আসায় এত বেশী আলোচনা হচ্ছে।


































আপনার মতামত লিখুন :