নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান অন্তত এক সপ্তাহ পূর্বে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন শহরের যানজট ও হকার নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন। এজন্য করণীয় কি তা জানতে চেয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে নানা পরামর্শ গ্রহণ করেন। আশ্বাস দেন দ্রুতই হকার উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিবেন তিনি।
এরপর সাখাওয়াত হোসেন খান বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ অফিসে হাজির হয়ে সেখানে গিয়েও হকার উচ্ছেদের বিষয়ে বার্তা দেন। বলেন, কিছুটা কঠোর হতে হবে হকার উচ্ছেদের ক্ষেত্রে। তার এসব কথা বেশ ভালোভাবেই আমলে নিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। শহরে হকার নিয়ন্ত্রকরা কিছুটা অসন্তুষ্ট হলেও অধিকাংশ মানুষ স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করেছে। সেই সাথে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাকে।
তবে সেই ঘোষনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হকার উচ্ছেদে কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এর মধ্যে ডিপিডিসির কর্মীরা ফুটপাতে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গেলেও হকাররা রয়ে গেছে আগের মতই। এখনও ফুটপাত দখলের পাশাপাশি সড়ক দখল করেও নিজেদের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে হকাররা। শহরজুড়ে হকার নিয়ে প্রশাসকের কড়া বার্তা থাকলেও তা উপেক্ষা করে চলছেন।
হকারদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, কিছুদিন পরেই এই হকার উচ্ছেদের সাময়িক অভিযান চললেও দ্রুতই তা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বর্তমানে হকারদের এক প্রকার সময় দেয়া হচ্ছে যেন দ্রুত সরে যেতে পারে হকাররা। অনেকেই চৌকি বসানোর পরিবর্তনে চাটাই নিয়ে বসতে শুরু করেছেন, যার মাধ্যমে দ্রুতই সরে যাওয়া সম্ভব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন। ম্যাজিস্টেটের উপস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসন হকার উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে ঠিক কবে নাগাদ এই অভিযান চলবে তা এখনও অজানা রয়ে গেছে। হকার উচ্ছেদের খবরে হকার্স দল কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হলেও তাদের প্রভাব কমেনি একটুও। এখনও আগের মতই চলছে নিয়ন্ত্রকদের আধিপত্য।
নগরবাসী বলছেন, হকার উচ্ছেদে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসন নিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানো উচিৎ। যেখানে হকারদের মালামাল জব্দের পাশাপাশি ভেঙ্গে দেয়া উচিৎ তাদের ফুটপাত দখল রাখা চৌকি। কয়েকজনকে আটক করে সাজার ব্যবস্থা করা। এর মাধ্যমে ফুটপাতে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ দখল মুক্ত রাখা সম্ভব।
ইতোমধ্যে রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখল করে ফুটপাতের হকারদের চালানো রাম রাজত্ব গুড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অন্যদিকে ঢাকাতেও একই ভাবে চলছে ধারাবাহিক অভিযান। সন্ধ্যা ৬ টার পর শহরের মার্কেটগুলো বন্ধ করে দেয়া হলেও ফুটপাতের হকাররা রয়ে গেছে বহাল। এতে করে আর্থিকভাবেও লোকসানে পড়ছে মার্কেটের দোকানিরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুততম সময়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করে স্থায়ী সমাধানে আসা জরুরী। বর্তমান প্রশাসক দ্রুত এই বিষয়ে উদ্যোগ নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা নগরবাসীর।






































আপনার মতামত লিখুন :