News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমালোচিত বিএনপি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমালোচিত বিএনপি

নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়তা বাড়লেও সেই সক্রিয়তা এখন নানা বিতর্ক ও সহিংসতার কারণে সমালোচনায় রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন। এসব ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলার অভাব ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নীরবতা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ফতুল্লার এনায়েতনগর এলাকায়। একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন তিনজন, যার মধ্যে এক মাদ্রাসা ছাত্রের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্য সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ ঘটনায় একাধিক স্থানীয় নেতার নাম সামনে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, অর্থনৈতিক খাত নিয়ন্ত্রণ এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে আধিপত্য কায়েমের অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে অতীতের আরও কিছু বিতর্কিত ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শুধু ফতুল্লা নয়, সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকাতেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। শান্তিনগর এলাকায় ঝুট ব্যবসা কেন্দ্রিক বিরোধে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে কথা কাটাকাটি হলেও তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। এমনকি সাধারণ জিনিসপত্র ব্যবহার করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।

এর আগে শিমরাইল মোড় এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সেখানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়ে মারামারিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। একইভাবে কাঁচপুর এলাকায় বালু ব্যবসা ও ঘাটের দখল নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব ঘটনার মূল কারণ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাত। ঝুট ব্যবসা, বালু মহাল, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, যা সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতারা প্রকাশ্যে দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন, যা দলীয় শৃঙ্খলার সংকটকে স্পষ্ট করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি একই ধরনের সহিংসতা ও দখলবাজি চলতে থাকে, তবে এর দায় কে নিবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে দলীয়ভাবে কঠোর অবস্থান না নিলে বিএনপির ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং নিরপেক্ষ তদন্তও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহিক সহিংসতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বিএনপিকে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। দলটি যদি এখনই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তবে এই সংকট ভবিষ্যতে আরও গভীর হতে পারে এমন আশঙ্কাই করছেন সচেতন মহল।