নারায়ণগঞ্জের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে হকার উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতবৃন্দের সাথে মতবিনিময় নাসিক প্রশাসকের মতবিনিময় সভায় হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন মোল্লা ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর দেওয়া পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে এ হট্টগোল শুরু হয়। মঞ্চে উঠে নিজের বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাখাওয়াত হোসেন খান এর সাথে তর্কে জড়িয়েছেন আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এর দৃঢ়তায় সেই তর্ক ও হট্টগোল বড় আকার ধারণ করতে পারেনি।
১০ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে মতবিনিময় সভায় শুরুর প্রথম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস মোল্লা। তিনি বক্তব্যে হকারদের উচ্ছেদের পরিবর্তে পুনর্বাসন করার কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি বক্তব্যে এই হকারদের পুঁজি করে একটি শ্রেণি ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছেন-মন্তব্য করেন।
ইলিয়াস মোল্লার বক্তব্য দেওয়ার পর নিজেদের মত প্রকাশ করেন মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মমিনুল হক, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর প্রধান ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা।
এরপর অনেকটা জোড় করেই মঞ্চে উঠে নিজের বক্তব্য শুরু করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। এ সময় নাসিক প্রশাসক তাকে পরে বক্তব্য দেওয়ার কথা বললে টিপু অন্য একটি প্রোগ্রামে যাবেন বলে বক্তব্য শুরু করেন।
তবে বক্তব্যের শুরুতে আবু আল ইউসুফ খান টিপু অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের ইঙ্গিত করে বক্তব্য দিতে শুরু করলে আপত্তি জানান নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। এসময় সাখাওয়াতের সাথে তর্কে জড়ান আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
সাখাওয়াত খান বলেন, এখানে দলীয় প্রোগ্রাম না দলীয় ভাবে বক্তব্য দেওয়া যাবেনা, অন্য দলকে নিয়ে মন্তব্য করা যাবেনা।
উত্তরে টিপু বলেন, দলীয় না, দলীয় ভাবে নিচ্ছিনা। আমাকে কথা বলতে দেন। আমি বলছি আমরা থাকবো। আমাকে কথা বলতে দেন। আপনির বাধার সৃষ্টি করতে পারেন না। আমাকে মতামত দেওয়ার জন্য ডাকায়ছেন আমি মতামত দিবো।
টিপু তার বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের ওই নেতাকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে প্রথম সারির রাজনৈতিক দলের অনেক নেতারা ফুটপাত, হকার, যানজট নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। কিছুক্ষণ আগে একটি ইসলামী দলের নেতা বলেছেন উচ্ছেদের নামে জেরিটম খেলা নাকি হয়। কয়দিন মাঠে ছিলেন? ফুটপাতের কোন হকারকে উঠিয়েছেন? একদিনও আসেন নাই। ডিসি এসপির কাছে গিয়েছেন বড় বড় কথা বলেছেন। বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আগামী ১৩ এপ্রিল কে থাকবে কে থাকবেনা জানিনা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি উচ্ছেদের জন্য থাকবেই থাকবে।
তিনি বলেন, যখন হকার উচ্ছেদের কথা উঠে নারায়ণগঞ্জের কিছু অপরাজনীতি আছেন ইনিয়ে বিনিয়ে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে কথা বলেন। আজকে স্পষ্ট করে বলতে হবে বিএনপির কোন নেতা হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে। যদি নাম না বলতে পারেন তাহলে ভবিষ্যতে কিন্তু সাবধান। ওই জিহবা দিয়ে বড় বড় কথা বলবেন না। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললাম নারায়ণগঞ্জে হকারদের কাছ থেকে কোনো বিএনপি, শ্রমিকদল, হকার দল নেতারা চাঁদাবাজি করে না। চাঁদাবাজি করে কিছু সন্ত্রাসী তাদের কোন দল নেই। তাদের পায়ের তলে কোনো মাটি নেই, পদ-পদবী নেই। তারা চাঁদা তুলেন, শ্বশুরের নাম বলতে আপনারা লজ্জা পান? আমরা লজ্জা পাই না।
টিপুর দেওয়া বক্তব্য শেষে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পর ইলিয়াস মোল্লা দাঁড়িয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখা দিতে শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তার সাথে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তার সাথে থাকা কয়েকজন কর্মী। এ সময় নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মাইকে সবাইকে নির্বৃত্ত থাকার অনুরোধ করেন এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা অতিথি সারী থেকে নিজ দলের কর্মীদের শান্ত করলে বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি।
শুক্রবার ১০ এপ্রিল বিকেল তিনটায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের অডিটরিয়ামে উক্ত মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে এসময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. সরকার হুমায়ূন কবির, মহানগর বিএনপির যুগ্ম মনির হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা,বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ডা. মজিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়র হোসেন, খেলাফত মসজিদের সাধারন সম্পাদক ইলিয়াস আহমেদ, বিশিষ্ট সমাজিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, মাওলানা আ. আউয়াল, বিশিষ্ট শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, জেলা গণসংহতির প্রধান সময়কারী তারিকুল ইসলাম, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা।





































আপনার মতামত লিখুন :