News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বেপরোয়া ইকবালের মাস্তানি বাড়ছেই


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম বেপরোয়া ইকবালের মাস্তানি বাড়ছেই

 নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি নেতা ও নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনকে ঘিরে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জমি দখল, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর নির্মাণাধীন বসতঘর ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইকবাল ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইকবালসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। একের পর এক এমন অভিযোগে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে বিএনপি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লার শাপলা চত্বর এলাকায় ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ জমি কিনে বসতঘর নির্মাণ করছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি গাড়িচালক মো. শাহাদাত হোসেন সানু। গত ৭ অক্টোবর সকালে ইকবাল হোসেন, পলাশ, মোক্তার, ফারুক ও সাইফুল তাঁর নির্মাণকাজে বাধা দেন। এ সময় কাজ চালিয়ে যেতে হলে ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। তিন দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে সমস্যা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। এর চার দিন পর অভিযুক্তদের কয়েকজন আবারও সেখানে গিয়ে শাহাদাত ও নির্মাণশ্রমিকদের গালাগাল এবং ভয়ভীতি দেখান। সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে ইকবাল হোসেনসহ ৯ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৬০ থেকে ৭০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।  শ্রমিক ও আশপাশের মানুষের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীদের কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা হালিম জুয়েলের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন শাহাদাত। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফতুল্লার ভ‚ইগড় এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মো. কাশেম মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী কহিনূর আক্তার পাপিয়ার অভিযোগ, তাঁদের কেনা জমিতে ইকবাল ও তাঁর সহযোগীরা মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে জমি পরিদর্শনে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। 

তার আগে গত ২৬ জুন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ইকবালসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব মো. মেহেদী হাসান। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৩ জুন রাতে মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকায় সিটি করপোরেশনের ল্যাম্পপোস্ট মেরামতের কাজে বাধা দেওয়ার পর তাঁর বাড়িতে গিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় ইকবাল তাঁর গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া গত ৪ জুন এক ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ইকবালের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন চৌরাঙ্গি গ্রæপের স্বত্বাধিকারী কাজী আব্দুস সাত্তার।

সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগেও একবার দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন ইকবাল। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক মিনহাজ আমানকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ স্থগিত করা হয়। পরে জাতীয় নির্বাচনের সময় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল একসময় সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনের অনুসারী ছিলেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে অবস্থান নেন। রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পরও এলাকায় তাঁর প্রভাব ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।

বারবার অভিযোগ ওঠার পরও ইকবালের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান সাংগঠনিক কিংবা আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে না আসায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার দায় দলকেও বিব্রত করে এমন মত স্থানীয়দের। এখন সর্বশেষ চাঁদা দাবি ও বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।