দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ছিলো ১৩০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ছিলো ৫০-৫৫ টাকা কেজি। আদা এক সপ্তার ব্যবধানে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। বয়লার মুরগীর দাম ১৫৫ টাকা থেকে ১৭০ টাকা হয়েছে। এগুলো ছাড়াও গত ৮ থেকে ১০ দিনের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের দিগুবাবুর বাজারে সবজি ও মাছসহ আরো অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বাজারে এসে হিমসিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে সব শ্রেণিপেশার মানুষকে। বিক্রেতাদের দাবি দেশে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সবজিসহ সবকিছুর সরবরাহ কমে গেছে। তাই দামও কিছুটা বেশি।
বাজারের সবজি বিক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, এক সপ্তাহ আগে পেঁপে বিক্রি হয়েছে ১৫ টাকা কেজি। এখন সেই পেঁপেই ২৫ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। ৫০ টাকার বেগুন দাম বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে। ৬০ টাকার ওস্তা ১০০ টাকা এবং টমেটো ও কাঁচামরিচসহ আরো অনেক সবজির দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা হয়েছে।
সোহানুর রহমান নামে দিগুবাবুর বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, অনেকদিন ধইরাই টানা বৃষ্টি হইতাছে। এইজন্য মালপত্র আসতে পারতাছেনা। আমদানী একেবারেই কমে গেছে। কৃষক ক্ষেত থেকে সবজি তুলতে পারেনা বলে আমরা মাল পাচ্ছিনা। পাচ্ছি কিন্তু কম। এই কারণে যতটুকু পাচ্ছি ওইটা বেশি দামে বিক্রি করতে হইতাছে। চাহিদা বাড়লে দামও কমবো। এটা গত বছরও হইসিলো।
সবজি বিক্রেতাদের মতো একই কথা জানিয়ে বাজারের মাছ বিক্রেতারা বলেন, নদ-নদীর পানি বাড়ায় মাছ ধরা যাচ্ছেনা। অনেকে মাছের ঘের তলিয়ে যাচ্ছে। তাই বাজারে মাছের সরবরাহও তুলনামূলক কম। যার ফলে মাছের দামও কিছুটা বেড়েছে বলে দাবি তাদের। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাঙ্গাস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, রুই ৫০০, কাতলা ৬০০, ঝাটকা ৬০০ এবং বড় ইলিশ ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে মাছ কিনতে আসা এক নারী বলেন, মাছের দাম সবই বাড়তি। দাম জিজ্ঞেস করলেই বলে সব নাকি দেশি মাছ যার কারণে দাম বেশি। পাঙ্গাস আর তেলাপিয়া দাম কম ছিলো এটাও এখন কেজিতে অনেক বেড়ে গেছে। কি খাবো আমরা যেটা ধরি সেটাই দাম বেশি। আগে এখানে একটা মাছ কাটালে ২০ টাকা দিতাম। এখন ৬০ টাকার কমে কাটেনা। এখানেও সিন্ডিকেট করছে। বাজার নিয়ে অভিযোগ দিলে শেষ হবেনা।
এদিকে মাছ, মাংস ও সবজিসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়লেও বাজারের মুদী দোকানিীদের দাবি চালের দাম আগের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৮০ টাকা, নাজির ৯০ টাকা এবং লতা চাল ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :