পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ নগরী গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ঈদ উপহার তুলে দিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কর্মরত ১হাজার ১৩৫জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর প্রত্যেককে নগদ ৫ হাজার টাকা মোট ৫৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকার নতুন নোট উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার ১৭ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টায় নাসিকের নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ অনুদান হস্তান্তর করা হয়।
দেশে এই প্রথম বারের মত দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য নগদ ৫ হাজার টাকা করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার প্রদান করা হলো।
এ সময় পরিচ্ছন্নকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপনাদের কতটুকু মূল্যায়ন করলে ক্ষমতায় বসার মাত্র ২৯ দিনের মাথায় উনি নিজে হাতে আপনাদের জন্য ঈদ উপহার তুলে দিয়েছেন। উনি ক্লিন এন্ড গ্রিণ সিটি গড়তে চান। আর এরজন্য আপনাদের ভূমিকা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ন। উনি যেমন আপনাদেরকে সম্মানিত করেছেন আপনারাও যেমন ঈমানের সাথে আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন। সামনে পবিত্র ঈদ উল ফিতর, ঈদ উপলক্ষ্যেই নারায়ণগঞ্জকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে যাত্রা শুরু করতে হবে। আমরা ক্লিন সিটি গড়ার জন্য ৬০ দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে ২৫দিন চলে গেছে আপনাদের সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে আপনাদের ডিউটিটুকু পালন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন উনি কাউকে না জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর দেখতে আসবে। উনি যেন এসে নারায়ণগঞ্জকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে দেখতে পায় আপনারা সেভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনেক দল অনেক কথা বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন এটা ভুয়া। কিন্তু ক্ষমতায় বসার একমাস পূর্ন না হতেই দেশের ৮টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। ধীরে ধীরে সারাদেশে ২ কোটি পরিবারের মাঝে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ হবে। প্রত্যেক পরিবারের যদি ৪জন করেও সদস্য হয় তাহলে ৮কোটি মানুষ এই ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা ভোগ করবে। এছাড়াও কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড সহ ৮ ধরনের কার্ডের ব্যবস্থা করবেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরিছন্নতা কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, আপনাদের যদি কোনো সমস্যা থাকে, দাবি-দাওয়া থাকে তা নিয়ে সরাসরি আমার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু প্রশাসনকে আটকাবেন তা মেনে নিবো না। যারা এমন করবেন তাদেরকে বরখাস্ত করে দেওয়া হবে। আপনারা সঠিকভাবে আপনাদের দায়িত্ব পালন করলে আমি সব সময় আপনাদের পাশে থাকবো। আপনাদের সুখ দুঃখ সব কিছু আমি শুনবো। আমার কাছে কোনো নেতা ধরে আসবেন না তাহলে সেই কাজটা হবেনা। যার সমস্যা সে সরাসরি আমার কাছে এসে আপনাদের সমস্যার কথা বলবেন আমি সমাধান করবো। আপনাদের জন্য আমার দরজা ২৪ঘণ্টা খোলা। সেই সাথে আপনারা কেউ মাদক ব্যবসার সাথে জড়াবেন না। যদি কেউ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হোন আর পুলিশ আপনাদেরকে ধরে তাহলে কোনো সহযোগিতা তো পাবেনই না উল্টো আমরা এসব খবর পেলে আমরাই মাদকের সাথে জড়িতদের পুলিশে ধরিয়ে দিবো।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নূর কুতুব উল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদুল মিরাজ, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হেমায়েত উদ্দিন, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া প্রত্যেক পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দেওয়া নগদ ৫ হাজার টাকা করে হস্তান্তর করার পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রত্যেকের একাউন্টে ৩ হাজার টাকা পৌছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


































আপনার মতামত লিখুন :