News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

সিদ্ধিরগঞ্জে পুরস্কার ঘোষিত আশরাফের সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম সিদ্ধিরগঞ্জে পুরস্কার ঘোষিত আশরাফের সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিহ্নিত ডাকাত ও মাদক সম্রাট আশরাফ পুনরায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী শাসনামলে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিজ এলাকায় ক্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামি হওয়ায় গাঢাকা দিয়েছিল। তবে,সম্প্রতি এই অপরাধী এলাকায় ফিরে পূর্বের কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছেন যা নিয়ে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন।

জানা গেছে, আশরাফের ছদ্ম নাম আসাদ। তিনি (নাসিক) ২ নম্বর ওয়ার্ডস্থ মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। ব্যক্তি পরিচয়ে নিজ এলাকায় আলোচিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তবে, যেনতেন কারবারি নয়, তিনি এতোটাই আলোচিত ছিলেন যে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পুরস্কারেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী পতনের পর এই কুখ্যাত অপরাধীর বিরুদ্ধে একাধিক বৈষম্যবিরোধী মামলা রুজু হয়েছে।

তথ্যমতে, সিদ্ধিরগঞ্জকে মাদকের স্বর্গরাজ্যের রুপান্তরিত করার মাধ্যমে মাদকের ভয়াল থাবায় যুবসমাজকে ধ্বংসের অভিযোগে ২০১৮ সালে ১৪ জন নারী-পুরুষ কারবারির বিরুদ্ধে কঠোর হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। সে তালিকায় আশরাফও ছিলেন। ওইবছর নারায়ণগঞ্জ জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার এই আশরাফসহ ১৪ তালিকাভুক্ত কারবারিকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা দেন এবং আশরাফ গ্রেফতারও হোন। কিন্তু এতেও থেমে যায়নি। বরং জামিনে মুক্তি পেয়ে সেই পূর্বের মতো নিজ ব্যবসা চালিয়ে যান তিনি।

আশরাফ মাদক ব্যবসা,সংঘবদ্ধ ডাকাতি, জুয়ার আসর বসানো ও প্রশাসনের সোর্সসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে একাধিক মামলার আসামি হয়ে জেলা হাজত খেটেছেন।

খরব নিয়ে জানা গেছে, তরুণ বয়সেই একটি অস্ত্র ও ডাকাতি মামলার আসামি হয়ে প্রায় এক যুগ কারাভোগ করেছেন। এছাড়াও কুখ্যাত এই অপরাধী ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ র‌্যাব কর্তৃক আটকও হন। এককথায় একাধিকবার আটক-গ্রেফতার হওয়া সত্বেও অপকর্মে অব্যাহত রেখেছেন আশরাফ।

আরও খবর রয়েছে, বর্তমানে আশরাফের মাদক ব্যবসা পরিচালনায় তার ভাতিজা ইমান আলীর ছেলে খাইরুল ইসলাম শাওন ও তার খালাতো ভাই আসাদুল্লাহ অন্যতম সহযোগী। এর পাশাপাশি মাদকের আদানপ্রদানে বড় একটি সিন্ডিকেট কাজ করছেন। যা প্রকাশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও মিজমিজি কালুহাজী ও ধনুহাজীর মধ্যভর্তি এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে নিয়মিত জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। তথ্য বলছে, সেই জুয়ার আসরে অর্ধকোটি টাকারও লেনদেন হয়ে থাকে।

স্থানীয়ের ভাষ্যমতে, স্বৈরাচার মাদক আমলে দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে মাদকের ব্যবসার মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বলে জানান আশরাফ। শুধু মাদকের ব্যবসাই নয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সোর্সের কাজে নিয়োজিত থেকে নিরীহ মানুষকে হয়রানির মাধ্যমে অর্থ কামান। মূলত যুবক বয়সে অস্ত্র মামলায় কারাভোগের ফলে তার অপরাধী নেটওয়ার্ক লম্বা হয়ে উঠেন। এদিকে ২০২৪ এর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘটলে গ্রেফতার ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্রে বসবাস শুরু করেন। তবে গত কয়েকমাস আগে পুনরায় এলাকায় ফিরে মাদক ব্যবসাসহ পূর্বের সকল অপকর্মের মাধ্যমে মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দক্ষিণপাড়া এলাকার এক ঠিকাদার ব্যবসায়ী জানান, লোকমুখে শুনেছি আশরাফের সরাসরি টেকনাফের কানেকশন রয়েছে এবং তিনি সেখান থেকে মাদক এনে খুচরায় বিক্রি করেন। তার মাদকের সিন্ডিকেট বেশ লম্বা। এছাড়াও আশরাফ প্রশাসনের সোর্স হিসাবে নিয়োজিত। সরকার পতনে মাঝখানে উধাও হয়ে গিয়েছিল,তবে হঠাৎ আবার এলাকায় আনাগোনা এবং নিজের কারবারে সক্রিয় হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উচিত দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা। অন্যথায় যুব সমাজ একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক বলেছেন, কোনো মাদক কারবারি ছাড় পাবে না। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের প্রত্যেককে আইনের আনা হবে। আশরাফ নামক বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামি এলাকায় ঘুরার খবর আমার জানা ছিল না। আমরা অবশ্যই তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালাবো। আসামিকে গ্রেফতারে স্থানীয়দের সহায়তাও দরকার।