News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২

ফুটপাতমুক্ত নারায়ণগঞ্জ নগরী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম ফুটপাতমুক্ত নারায়ণগঞ্জ নগরী

প্রায় এক মাস আগে থেকেই নির্দিষ্ট তারিখে নারায়ণগঞ্জ শহরের হকারের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেই সাথে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য সকলেই সহযোগিতা চেয়ে একের পর এক সভা সভা করা হয়েছে। যার ধারাবাহিকতকায় সোমবার (১৩ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকা থেকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সকলকে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবেন। কিন্তু এই ঘোষণার দেয়ার সাথে সাথেই হকাররা সতর্ক হয়ে যান। সেই সাথে গত কয়েকদিনের তৎপরতায় তারা আরও বেশি সতর্ক হন। সবশেষ তারা ফুটপাত থেকে আগে থেকেই মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। রাতের মধ্যেই ফুটপাতে রাখা হকারদের সকল মালামাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

 

ফলে সোমবার শহরের কোনো ফুটপাতেই হকার দেখা যায়নি। আপাতত তারা কয়েকদিন ফুটপাত থেকে দূরে থাকবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে হকাররা আবারও ফুটপাতে ফিরে আসবেন।

 

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সমস্যা হিসেবে পরিণত হয়েছে হকার। আর এই সমস্যা সমাধানে নারায়ণগঞ্জের সর্বমহলেই তীব্র দাবী উঠেছে। সকল শ্রেণি পোশার মানুষই হকারমুক্ত ফুটপাত দেখতে চান। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান হকারমুক্ত ফুটপাতের ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে ফুটপাত হকারমুক্ত করণের বিষয়টি আরও বেশি জোরালো হয়ে উঠে।

 

একই সাথে একের পর এক সভা সমাবেশের মধ্য দিয়ে হকারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানের পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।

 

যার ধারাবাহিকতায় সবশেষ গত ১০ এপ্রিল নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী মহল সহ সকল দলের সহযোগিতা কামনা করে মতবিনিময় সভা করেছেন প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

 

সেদিন ‎তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জকে একটি সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে। বিশেষ করে যানজট নিরসন ও হকার সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ দুটি বড় সমস্যা সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সমাধান সম্ভব নয়।

 

সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নগরীর বিবি সড়কসহ মীর জুমলা সড়ক, কালীর বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব এলাকায় ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা বিকল্প স্থানে ব্যবসা করতে পারেন। ১৩ এপ্রিল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। যানজট ও হকারমুক্ত নগরী গড়তে আমি সকলের দলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

কিন্তু এই তৎপরতা থেকে আগে থেকেই হকাররা ফুটপাত ছেড়ে দিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে ফুটপাতের অনেক জায়গাতেই ফাঁকা রয়েছে। এরপরও যে সকল হকার ফুটপাতে রয়েছে তারাও রাতের মধ্যে সবকিছু গুটিয়ে নিয়েছেন। ফলে দিনের বেলায় সড়কের ফুটপাতে কোনো হকারই থাকছে না।

 

তবে বিগত সময়ে এই হকার উচ্ছেদের তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে হকারমুক্ত করতে গিয়ে সাবেক মেয়য় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যাচেষ্টার মতো লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন হকাররা। সেই ঘটনা সারাদেশজুড়েই আলোচিত হয়েছিলো।