নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে শিশুসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয়ভাবে এক নেতাকে বহিষ্কার করা হলেও প্রশ্ন উঠেছে এতেই কি দায় শেষ বিএনপির| দলীয় শৃঙ্খলার কথা বলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনা বাড়ছে|
গত ১০ এপ্রিল রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার ¯^াক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়| দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে| যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তে এ বহিষ্কার কার্যকর হয়|
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনায় কেবল একজনকে বহিষ্কার করেই দায়িত্ব শেষ করে ফেলে বিএনপি| এতে প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে, আর ভবিষ্যতে এমন সহিংসতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাও থেকেই যাচ্ছে|
এর আগে, ৯ এপ্রিল সকালে ফতুল্লার এনায়েতনগরের শাসনগাঁও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে| দীর্ঘদিন ধরে চলা দ্বন্দ্বের জেরে সেদিন উভয়পক্ষই দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়| একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শুরু হয় সংঘর্ষ, চলে গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ|
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন অন্তত তিনজন| তাদের মধ্যে রয়েছেন রাকিব (২২), রফিক (৪০) এবং মাদ্রাসার ছাত্র ইমরান হোসেন (১৩)| এছাড়া ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন আরও কয়েকজন| আহতদের মধ্যে ইমরান এখনো চিকিৎসাধীন, যা ঘটনাটিকে আরও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে|
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল| এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা যুবদলের একটি গ্রুপের অনুসারীরা, আর অপরপক্ষে ছিলেন ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়কসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা| আধিপত্য বিস্তার এবং আর্থিক ¯^ার্থকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত|
ঘটনার পর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এলেও, অন্যান্য জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক বা আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল| তাদের মতে, কেবল বহিষ্কার দিয়ে দায়সারা মনোভাব দেখালে সংগঠনের ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরবে না, বরং অপরাধপ্রবণতা আরও উৎসাহিত হবে|
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা| তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এমন সহিংসতা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে|
সব মিলিয়ে, ফতুল্লার এই ঘটনা শুধু একটি সংঘর্ষ নয় এটি দলীয় শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং আইন প্রয়োগের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে| এখন দেখার বিষয়, বিএনপি কেবল বহিষ্কারেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়|


































আপনার মতামত লিখুন :