News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২

সুন্দর শহরের স্বপ্নে বিভোর নগরবাসী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম সুন্দর শহরের স্বপ্নে বিভোর নগরবাসী

নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘ দিনের ভোগান্তি আর অচলাবস্থার শহর থেকে মুক্তি পেয়ে একটি সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন ও চলাচল উপযোগী নগর গড়ার স্বপ্ন দেখছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে এখন একটি তারিখ ১৩ এপ্রিল। বহুবার ব্যর্থতার ইতিহাস পেছনে ফেলে এবার নতুন উদ্যোগে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ, যদিও সংশয়ের ছায়াও পুরোপুরি কাটেনি।

নগরীর অন্যতম বড় সমস্যা ফুটপাত দখল ও যানজট। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ নাগরিক জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে অনেকটাই ব্যাহত করছে। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী সবাইকে প্রতিনিয়ত সময় আর ভোগান্তির মূল্য দিতে হচ্ছে। ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে সড়কে নামতে হয়, যা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি যানজটকেও করে তোলে আরও তীব্র। এই বাস্তবতা থেকেই নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নগরীর প্রধান সংকট হিসেবে ফুটপাত দখল ও যানজট সমস্যাকে চিহ্নিত করেন। তিনি ধারাবাহিকভাবে আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন এবার একটি কার্যকর ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে।

সম্প্রতি নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ঘোষণা আসে, ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হবে হকার উচ্ছেদ অভিযান। চাষাঢ়ার শহীদ জিয়া হল এলাকা থেকে শুরু হয়ে এই অভিযান চলবে ধারাবাহিকভাবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো প্রতীকী বা একদিনের উদ্যোগ নয়; বরং প্রতিদিন নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে পুরো শহরকে দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ অভিযানে সিটি করপোরেশনের বিপুল সংখ্যক কর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করবে। বিশেষ করে বিবি রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কোনো অবস্থাতেই হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই।

তবে এই উদ্যোগ ঘিরে শুধু আশাবাদ নয়, সতর্কতাও রয়েছে। অতীতে একাধিকবার হকার উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ীভাবে কার্যকর হয়নি। রাজনৈতিক চাপ, সমন্বয়ের ঘাটতি এবং ধারাবাহিকতার অভাবে সেসব উদ্যোগ মাঝপথেই থেমে গেছে। ফলে এবারও অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন এই উদ্যোগ কি শেষ পর্যন্ত টেকসই হবে।

তবুও নগরবাসীর একটি বড় অংশ মনে করছেন, পরিবর্তনের জন্য কোথাও না কোথাও থেকে শুরু করতে হয়। যদি প্রশাসন তাদের ঘোষণার প্রতি অটল থাকে এবং নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যায়, তাহলে ধীরে ধীরে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ নগর গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে মানবিক দিকটিও সামনে আসছে। হকারদের জীবিকা ও বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে যারা প্রকৃত হকার, তাদের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে তারা জীবিকা হারিয়ে বিপাকে না পড়েন।

এদিকে, অভিযানে কোনো ধরনের বাধা বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও কঠোর বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। আইন প্রয়োগে সমতা নিশ্চিত করার এই প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যহীন নগর ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা করে আসছেন। সব মিলিয়ে, ১৩ এপ্রিল এখন শুধু একটি তারিখ নয়, এটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য একটি প্রত্যাশার প্রতীক। এই দিনটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শহরের চেহারা বদলে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত হতে পারে। আর যদি ব্যর্থ হয়, তবে হয়তো আবারও হতাশার তালিকায় যোগ হবে আরেকটি উদ্যোগ। তবুও মানুষ এখন আশাবাদী কারণ তারা একটি সুন্দর শহরের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।