সারাবছরই ফতুল্লায় জলাবদ্ধ থাকে অনেক রাস্তা। আর বর্ষা এলে তো কথাই নেই, ভোগান্তি বাড়ে কয়েক গুণ। ফতুল্লা অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য জলাবদ্ধতা যেন এক চিরস্থায়ী অভিশাপ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা উদ্যোগ ‘ডিএনডি প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন করা হলেও, তার বিন্দুমাত্র সুফল পায়নি এ অঞ্চলের মানুষ। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে স্থানীয়দের।
এমন চরম বাস্তবতায় এবার বর্তমান সরকারের কাছে নতুন করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ফতুল্লাবাসী। এই দাবিকে জোরালো করে একই কথা বলে আসছেন এ অঞ্চলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের কাছে দফায় দফায় চিঠি পাঠিয়ে জলাবদ্ধতার এই যন্ত্রণা থেকে ফতুল্লাবাসীকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ফতুল্লার এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ পুরো অঞ্চলটিকে সিটি করপোরেশনের সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ডিএনডি প্রজেক্টের বর্তমান স্থবিরতা ও জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ফতুল্লার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে একটি বড় প্রস্তাবনা সামনে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই অঞ্চলের আওতাধীন ২৪টি খাল নিয়মিত খনন এবং এগুলোর পানির প্রবাহ সচল রাখতে হবে।
তবে এই খালগুলোর মালিকানা নিয়ে রয়েছে মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা। কোনটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের, আবার কোনোটি জেলা প্রশাসনের অধীনে। এ অবস্থায় নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খালগুলো যার যার মালিকানায় রেখেই একটি বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার পুরো দায়িত্ব দেওয়া হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) কাছে। সিটি করপোরেশন নিজ দায়িত্বে এই ২৪টি খাল খনন, সংস্কার এবং পানি প্রবাহের পথ সচল রাখবে। অর্থাৎ, ঘুরেফিরে ফতুল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধানের চাবিকাঠি শেষ পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের হাতেই উঠছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবীর। তিনি বলেন, বিষয়গুলো প্রস্তাবনা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। চুক্তিগুলো এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে। খুব দ্রুতই সেই চুক্তি সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি ভেতরের ড্রেন সংস্কার সহ জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে সংস্কার কাজ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ডিএনডি প্রজেক্টের নামে বিগত দিনে শুধু টাকার শ্রাদ্ধ হয়েছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই ফতুল্লার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, এমনকি কলকারখানাও পানিতে তলিয়ে যায়। নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে চর্মরোগসহ নানা রোগব্যাধি এখন ফতুল্লাবাসীর নিত্যসঙ্গী।
বাসিন্দারা বলছেন, এই অঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বলতে কিছু নেই। এখন আলোচনা উঠেছে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে ফতুল্লার চারটি ইউনিয়ন। যদি এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হয় এবং ড্রেন ও সড়ক পরিকল্পিত ভাবে সংস্কার করা যায় তাহলেই হয়তো হয়তো আমরা এই ভোগান্তি থেকে থেকে মুক্তি পাব।

































আপনার মতামত লিখুন :