নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সমর্থনে একমাত্র ঝটিকা মিছিল পরিচালনা করা হচ্ছে আজমেরী ওসমানের মাধ্যমে। বিদেশ থেকে অর্থায়ন করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চলছে এসব ঝটিকা মিছিল। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি স্থানে একই ব্যক্তিদের দেখা গেছে মিছিলে অংশ নিতে। প্রতিটি মিছিলেই থাকে আজমেরী ওসমানের নাম ও ছবি। এসব মিছিলের পর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হলে তাতে আসামী করা হয় সংশ্লিষ্ট এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। যাদের অধিকাংশই ৫ আগস্টের পর থেকে নিস্ক্রিয় রয়েছে। কেবল আজমেরী ওসমানের কারণে বার বার হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালাতে পারে আওয়ামী লীগ এমন তথ্য ছিলো গোয়েন্দাদের কাছে। সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করে নারায়ণগঞ্জে বাড়তি নজরদারি চালায় পুলিশ প্রশাসন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগে একাধিক মিছিলের পর চাপ বাড়ে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসা ব্যক্তিদের উপর। এমনকি আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে দূরে চলে গেছেন এবং নিস্ক্রিয় এমন ব্যক্তিদের উপরেও আসছে চাপ।
অন্যদিকে যারা এই ধরনের অপকর্ম করছে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায়। সেই সাথে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকায় চলছে আলিশান জীবন যাপন। বিপদ আপদ দেখলেই ছুটে যাচ্ছে কক্সবাজার কিংবা সিলেটের অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলে। চলাফেরা করেন ভাড়া করা গাড়িতে। এভাবেই নিজেদের সুরক্ষিত করে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
একাধিক আওয়ামী লীগের নিস্ক্রিয় নেতা জানান, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ দেখছেন না তারা। বর্তমানে নীরবে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে বাসা বাড়িতে অবস্থান করতে চাচ্ছেন তারা। যেই দলের প্রধান নেতাকর্মীদের রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় সেই দলের জন্য ফের ত্যাগ বা সংগ্রাম করতে নারাজ। তাছাড়া দলের সুসময়ে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। এক শ্রেনীর লুটেরা সবকিছু লুটপাট করেছে। ভিন্ন দল থেকে লোকজন নিয়ে আওয়ামী লীগে ঢুকিয়েছে, সেই ব্যক্তিরা ফের বিএনপিতে প্রবেশ করেছে। আমাদের জন্য রাজনীতি বরাবরই হতাশার।
এমন পরিস্থিতিতে আমরা যখন নীরবে বাসা বাড়িতে থেকে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতে চাচ্ছি, তখন লুটেরা ওসমান পরিবারের ভাতিজা আজমেরী ওসমান জায়গায় জায়গায় ভাড়াটে লোকজন দিয়ে মিছিল করাচ্ছে। সেই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মামলায় নিস্ক্রিয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হচ্ছে আসামী। আজমেরী ওসমানের কারনে স্বাভাবিক জীবন যাপন চাইলেও করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে পলাতক এসব ব্যক্তিদের কারনে দেশে থাকা নিষ্ক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। নাশকতার ঘটনায় মামলা দেয়া হলেও অন্তত প্রকৃত অপরাধী তথা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের গ্রেপ্তার করা হলে স্বস্থি পাবে সবাই। নিস্ক্রিয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বদলে সক্রিয় সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনলে সাধারণ মানুষের জান মালও রক্ষা পাবে এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে।





































আপনার মতামত লিখুন :