News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

নির্বাচন শেষ, উধাও জমিয়ত


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ১০:১০ পিএম নির্বাচন শেষ, উধাও জমিয়ত

নির্বাচন শেষ হতেই আবারও রাজনীতির মাঠ থেকে ‘উধাও’ হয়ে গেছেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে বিএনপি জোট থেকে নির্বাচন করা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। ভোটের পর থেকে ফতুল্লার রাজনীতিতে তার কোনো ভূমিকা বা উপস্থিতি না থাকায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয় বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে। এমনকি সদ্যসমাপ্ত ঈদেও ফতুল্লা বিএনপি, ছাত্রদল কিংবা যুবদলের নেতাকর্মীদের কোনো খোঁজ নেননি তিনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে ক্ষোভের ঝড়। নেতাকর্মীদের আক্ষেপ ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’প্রার্থীর কারণেই আজ ছন্নছাড়া ফতুল্লা বিএনপি।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে প্রথম ফতুল্লার রাজনীতিতে প্রকাশ্যে আসেন মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। সে সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় তিনি নির্বাচন করেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর কিছুদিন জেল খাটলেও কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি আর রাজনীতিতে সক্রিয় হননি। দীর্ঘদিন ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার নির্বাচনের জন্য কাজ করেছিলেন, সেইসব বিএনপি নেতাকর্মীদের কোনো খোঁজও নেননি তিনি।

দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সাল থেকে ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হন কাসেমী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন পাওয়ার কিছুদিন আগে থেকে পুরোদমে মাঠে নামেন তিনি। তবে এবার মাঠে নেমেই তিনি পাশে টেনে নেন বিএনপির বেশ কিছু বিতর্কিত নেতাকে। এমনকি আওয়ামী লীগের প্রতীক নিয়ে ইউপি নির্বাচনে জয় পাওয়া কুতুবপুরের চেয়ারম্যান সেন্টুকে সুপারিশ করে বিএনপিতে নিয়ে আসেন তিনি।

কাসেমীর এমন কর্মকা-ে ক্ষিপ্ত হয় ফতুল্লা বিএনপির একটি বড় অংশ, যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানাভাবে নির্যাতন, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছিলেন। ত্যাগী এই অংশটি কাসেমীকে বয়কট করে দলের ‘বিদ্রোহী’প্রার্থী শাহ আলম এবং গিয়াস উদ্দিনের পক্ষ নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামে।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে ফতুল্লা বিএনপির বহু নেতাকর্মী দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। বর্তমানে তারা দলবিহীন অবস্থায় চরম হতাশায় দিন যাপন করছেন। অথচ যার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফতুল্লা বিএনপি আজ খ--বিখ-, সেই কাসেমী নির্বাচন শেষ হতেই আবারও ফতুল্লা থেকে উধাও হয়ে গেছেন।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভোটের সময় এলে কাসেমী সাহেবের দেখা মেলে, আর ভোট শেষ হলে তিনি হাওয়া হয়ে যান। তার কারণে আমাদের দলটা আজ টুকরো টুকরো হয়ে গেল। আমাদের অনেক নেতাকর্মী দল হারালো, অথচ তিনি এখন ফতুল্লার রাজনীতির মাঠেই নেই। ঈদেও একটা ফোন দিয়েও খোঁজ নেয়নি। এমন সুবিধাবাদী নেতার কারণেই আজ ফতুল্লা বিএনপির এই ছন্নছাড়া দশা।"

নেতাকর্মীরা বলছেন, একদিকে ভুল প্রার্থীর কারনে আসন হাতছাড়া, অন্যদিকে ফতুল্লায় চলছে এক শ্রেনীর বিএনপি নেতাকর্মীদের একক আধিপত্য। যে কারনে কোনঠাসা হয়ে আছেন বিএনপির রাজনীতি করে আসা দলের বড় একটি অংশ। দ্রুতই এই অঞ্চলের রাজনীতি এবং নেতৃত্ব ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। পাশাপাশি বহিষ্কৃতদের পূনবিবেচনা করে তাদের পদ পদবী ফিরিয়ে দিয়ে মূল্যায়ন করা জরুরী।