নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির সাথে জড়িত সন্দেহে গত ২৮ আগস্ট আড়াইহাজার থানার জোকারদিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে ২৫ বছর বয়সী আমিনুল ইসলামকে।
২৯ আগস্ট নোয়াখালীর আদালতে আমিনুল সোনাইমুড়ীতে ২টি, বেগমগঞ্জে ২টি ও কুমিল্লা এলাকায় ১টি সহ মোট ৫টি ডাকাতির ঘটনার সাথে সে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
আড়াইহাজার থানার জোকারদিয়া ও পাশের গ্রাম মরদাসাদীতে আমিনুলের মতো শতশত মানুষ ডাকাতিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা ৪০ থেকে ৫০টি দলে বিভক্ত হয়ে আড়াইহাজারের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলাসহ পাশের নরসিংদী, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকায় ডাকাতি করে থাকে।
বিভিন্ন সময় পেশাগত ঝুঁকিতে পড়ে গ্রামটির অনেক ডাকাত মারা পড়েছে। এর মধ্যে হালিম, আক্তার, মোক্তার, সাদু, জর্সিম, সপ্পা, আফতুর উদ্দিন, হুজিল, আওয়াল, আহাদি, দানিয়াল ও রিপন অন্যতম।
২০১৫ সালে ডাকাতি করতে গিয়ে নরসিংদীতে নিহত ৭ জনের মধ্যে ৪ জন ছিল মরদাসাদী গ্রামের। এরপর ডাকাতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে রফু, আলাউদ্দিন, আলামিন, মুকুল, সেলিম, মোহর আলী।
গ্রাম দু‘টির অবস্থান আড়াইহাজার উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে মাহমুদপুর ইউনিয়নে। সেখানে প্রায় ৪০০ পরিবারের বাস।
এক সময় গ্রামটির মানুষ ছিল কৃষিজীবী। পরে তারা চর দখলের কাজে লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার হয়। একপর্যায়ে তারা ডাকাতি পেশায় জড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের পর ডাকাতিই জীবিকার প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়ায় তাদের পুলিশের হিসাব মতে, গ্রাম দু‘টিতে এখন তালিকাভুক্ত ডাকাতের সংখ্যা ২০০।
তবে ওই গ্রামে কিছু সমাজ সচেতন ব্যক্তিও রয়েছেন। ডাকাত পরিচয় মুছে ফেলতে নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ। ২০০৪ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুরের তত্তাবধানে ৪৪ জন পেশাদার ডাকাত আত্মসমর্পণ করিয়ে ছিল। ২০১৫ সালে গ্রামবাসীর কলঙ্কমোচনের উদ্যোগ নেন সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। তিনি গ্রামটির নাম পাল্টে 'শান্তিপুর' রাখেন। কিন্তু এখনও শান্তি ফিরে আসেনি।
জোকারদিয়া গ্রামের এক স্কুল শিক্ষক বলেন, শুধু মরদাসাদী কিংবা জোকারদিয়া নয়, আড়াইহাজারের প্রতিটি গ্রামেই ডাকাত আছে। গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। তবেই জেঁকে বসা অন্ধকার দূর হবে।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, ‘নোয়াখালী, সোনাইমুড়ী ও বেগমগঞ্জে কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা সংগঠিত হওয়ার পর ভিডিও ফুটেজ দেখে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাকাত আমিনুলকে শনাক্ত করে। পরবর্তীতে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাকাত আমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তার সাথে আরও কিছু ডাকাত সদস্য রয়েছে। তাদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। সম্প্রতি আড়াইহাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আড়াইহাজার ডাকাত প্রবণ এলাকা।
আপনার মতামত লিখুন :