জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ হুশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, লক্ষ্মীনারায়ণ এর যেখানে পূজা উদযাপন করে সে স্থান দখল করা হয়েছে। আসলে বলতে চাই, অতিতে আওয়ামীলীগের দুঃশাসন আমলে যা করেছে বর্তমান আগামী করতে পারবেন না। বিএনপি মানুষের মনের কথা বলেন জনগণের কথা বলেন। বিএনপি থাকতে আপনাদের কোন পূজা উদযাপন বাধাগ্রস্ত করতে দেয়া হবে না। কথা দিচ্ছি, যারা দখল করে রেখেছেন কোন স্টেপ (পদক্ষেপ) নেয়া আগে লক্ষ্মীনারায়ণ জায়গা ছেড়ে দিন। বেদখল করে রাখার চেষ্টা করবেন না। তা না হলে পরিণাম ভালো হবে না। আপনারা সম্মান নিয়েই যাদের জায়গা তাদের বুঝে দিন। এতে জনগণ হাসবে না, চুপি চুপি কাজটা করে ফেলেন। কিন্তু যদি ব্যবস্থা হয়, তাহলে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনারা ভুলে যান স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ আমলকে, আপনারা ভুলে যান রাক্ষুসী শেখ হাসিনা আমলকে। মানুষের অধিকার জোর করে হরণ করবেন, সেগুলো ভুলে যান। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সময় দিলাম, শারদীয় পূজার আগে বুঝি দিন। আপনাদের সাথে সনাতনের জনগণ ধাক্কাধাক্কি করতে যাবে না। গত বছর সকল পূজা উদযাপন পালন করেয়েছি, আগামীতে সুন্দর পরিবেশে শারদীয় দূর্গোৎসব পালন করা হবে। বিএনপি সব সময় দেশের জনগণের দল হিসেবে পরিচিত।
৩১ আগষ্ট রোববার বিকালে নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে পূজা উদযাপন পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসব সুন্দর সুষ্ঠ ও সফল করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর কুমার দে সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, নারাণয়গঞ্জ মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহম্মেদ, ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মাওলানা মাছুম বিল্লাল প্রমুখ।
শেয়ারহোল্ডারদের সূত্রে জানা গেছে, নাসিকের ১০ নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে অবস্থিত শতবর্ষীয় নিউ লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলটির শেয়ারহোল্ডারদের উচ্ছেদে দীর্ঘদিন ধরেই নোংরা ষড়যন্ত্র চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শেয়ারহোল্ডাররা। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ এক যুগ পূর্বে ২০১২ সালে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে নিট কনসার্নের কাছে মিলটি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয়ার পরে আন্দোলনরত বাকী শেয়ারহোল্ডারদের উৎখাত করতে না পেরে নোংরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠে তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে। মিলটি পরিচালনার জন্য সরকার নামমাত্র মূল্যে শ্রমিকদেরকে মালিক বানিয়েছিল। তবে দুর্নীতিবাজ পরিচালনা পর্ষদ মিলটিকে লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে বেশীরভাগ শেয়ারহোল্ডারদের ভুল বুঝিয়ে তাদের শেয়ার বিক্রি করিয়ে দেয়। অথচ সরকারের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী সরকারী থেকে বেসরকারী করণকৃত কোন প্রতিষ্ঠানের মালিকানার শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর বৈধ নয়। দীর্ঘ এক যুগ ধরে আন্দোলনরত শেয়ারহোল্ডারদের উৎখাতে চালানো হয়েছিল নির্যাতনের স্টীমরোলার। তাদের কলোনীতে অগ্নিসংযোগ সশস্ত্র হামলাসহ নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটিয়েছে। এসব বিষয়ে বিটিএমসি, দুদকসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন আন্দোলনরত শেয়ারহোল্ডাররা।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ২০০০ সালের ১০ ফেব্রæয়ারী বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার শ্রমিক কর্মচারীদের নিকট রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের বস্ত্র মিলের মালিকানা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যার মধ্যে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলটিও অন্যতম। তবে সরকার শ্রমিকদের শেয়ারহোল্ডার বানিয়ে মালিকে পরিণত করলেও স্বার্থান্বেষী পরিচালনা পর্ষদের কারণে নিউ লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলটির শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। ২০০১ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মিলটিতে প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা আয় হলেও ১২ বছরে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছে দুর্নীতিবাজ পরিচালনা পর্ষদ। মিলটির অভ্যন্তরে থাকা কয়েক কোটি টাকা মূল্যের মেশিনারীজও লুটপাট করে বিক্রি করে দেয়া হয়। ১৮ একর ৬৫ শতাংশের উপর অবস্থিত মিলটির আনুমানিক মূল্য ৭০০ কোটি টাকা হলেও মাত্র ৩৫ কোটি টাকায় মিলটির বেশীরভাগ অংশই দখলে নিয়েছে নিট কনসার্ন গ্রুপের মালিক জয়নাল আবেদীন মোল্লা ও তার লোকজন এমনটিই অভিযোগ শেয়ারহোল্ডারদের। ৫১০ জনের মধ্যে মাত্র ৫৩ জন শেয়ারহোল্ডার শেয়ার বিক্রি করতে রাজী হয়নি। এরপর থেকে গত এক যুগ ধরে তাদের উপর চালানো হয়েছে নির্যাতনের স্টীম রোলার।
আপনার মতামত লিখুন :