News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্ধ হয়নি মাটি উত্তোলন, রাতের আধারে চলে গ্রাব মেশিন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম বন্ধ হয়নি মাটি উত্তোলন, রাতের আধারে চলে গ্রাব মেশিন

নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীতে অবৈধ মাটিকাটা নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটে গেলেও এখনও বন্ধ হয়নি মাটি কাঁটা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিরাতে ধলেশ্বরী নদীতে গ্রাব মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। দিনের আলো ফুটতেই সেসব মেশিন নিয়ে রাখা হচ্ছে সিপাইপাড়া খালে। যেখানে কয়েকদিন আগেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কতিপয় নেতারা মাটিকাটা নিয়ে গোপন বৈঠক করতে গিয়ে ডিবি পুলিশের ধাওয়ার শিকার হয়েছেন। 

রোববার সকালেও সিপাইপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতভর গ্রাব মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন করেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ভোরের আলো ফোটার কিছু সময় পরেই তারা সেসব মেশিন সরিয়ে নিয়েছেন। বরাবরের মতই নীরব নৌ পুলিশ। তারা সবকিছু জেনে বুঝেও কোন ব্যবস্থা নেন না। না দেখার ভান করে সরে থাকেন। তাদের এই নীরবতার কারনে স্থানীয় এমপি বলতে বাধ্য হয়েছেন যে, নৌ পুলিশ মাটি উত্তোলন থেকে কমিশন খেয়ে থাকেন। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুইটি মেশিন রাত গভীর হতেই মাটি কাঁটা শুরু করে। যা চলে ভোর পর্যন্ত। এরপর সেই গ্রাব মেশিন রাখা হয় সিপাইপাড়া খালে। এর ফলে মূল নদী থেকে বোঝার উপায় থাকে যে এখানে কয়েক ঘন্টা আগেও গ্রাব মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। ফলাফল পাড় ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হন বাসিন্দারা। তাদের ভিটেমাটি একটু একটু করে তলিয়ে যাচ্ছে ধলেশ্বরী নদীতে। 

বাসিন্দারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা এই মেশিনগুলো পরিচালনা করে। আর বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ সহ আরও কয়েকজন সরাসরি এসবের শেল্টার দেয়। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন পেয়ে থাকেন তারা। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর অনুসারী হওয়ায় কেউ তাদের কিছু বলতে পারে না। 

মাটি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাটি কেটে তা সরবরাহ করা হয় ইটভাটায়। মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয় ট্রলার। প্রতি ট্রলার মাটি ৩ হাজার টাকা। দৈনিক দেড়শ থেকে দুইশ ট্রলার মাটি বিক্রি হয়। অর্থ্যাৎ দৈনিক সাড়ে ৪ লাখ টাকার মাটি বিক্রি হচ্ছে। মাসে এর পরিমান দাঁড়ায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কিংবা আরও বেশী। অভিযোগ আছে অবৈধ মাটি উত্তোলনের এই ব্যবসায় মাসোয়ারা পেয়ে থাকেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের কেউ কেউ। যেই কারনে ভুক্তভোগীরা নানান স্থানে দৌড়েও সমাধান পান না। 

চলতি বছরের ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ধলেশ্বরী নদীর দুই পাশে অবৈধ ইটভাটা এবং অবৈধ মাটিকাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী বরাবর নোটিশ প্রদান করেন সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। এরপর জেলা প্রশাসনের মাসিক বৈঠকেও এই বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। কিন্তু কোনভাবেই থামানো যায়নি এই অঞ্চলের মাটিকাঁট। সবশেষ এনসিপি নেতা তাওহীদুল ইসলামের উপর হামলার পর বিক্ষোভ মিছিল করে এনসিপি। সেখানে এমপি আল আমিন ফোন করে নৌ পুলিশের ইনচার্জকে কড়া ভাষায় ভৎসর্না করেন। কিন্তু তারপরেও মাটি কাঁটা চক্রের দৌরাত্ম্য এখনও থামেনি।