নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মজিদ (মজিদ কমিশনার) বলেছেন, বিএনপির মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মীরা ভালো, তবে নেতারা ভালো না। নারায়ণগঞ্জে বিগত দিনে ওসমান পরিবারের সদস্যরা যেই জায়গাগুলো থেকে অবৈধ ভাবে টাকা উপার্জন করতো সেখান থেকে এখন কারা টাকা খাচ্ছে? এই শহরের হাট-ঘাট, বাজার, নদী-নালা সবই কারো না কারো দখলে রয়েছে। যদি বিএনপির কেউ জড়িত থাকে তাহলে তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কোথায় রইল? চাষাঢ়ার লিংক রোডের পাশে গাড়ীর স্ট্যান্ড থেকে আজমেরী ওসমান টাকা পেতো। আমার জানা মতে সেই টাকা এখন জেলা বিএনপির এক নেতা পায়। আমরা যখন তরুণ ছিলাম তখন এক ধরনের রাজনৈতিক সংষ্কৃতি ছিলো। এখন সেই দিন নেই। তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে রাজনীতি করতে হবে। মানুষ যেটা পছন্দ করেনা সেটা করা যাবেনা।
তিনি বলেন, গত বছর ঠিক এই সময় নারায়ণগঞ্জে যখন শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন চলছিলো তখন শামীম ওসমানের মালিকানাধীন শীতল পরিবহনের অনেকগুলো গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। আমি এবং আমার ভাই হাসান আন্দোলনে ছায়া হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছি মন্ডলপাড়া এলাকায় কিন্তু আমরা ওই বাসগুলোতে আগুন লাগাইনি। হাসানের তখন ব্রেনে বড় টিউমার ছিলো। মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার আমাদের দুই ভাইয়ের নাম শামীম ওসমানের বাস পোড়ানের মামলায় ঢুকিয়ে দিলো। হাসান সঙ্গে সঙ্গে ব্রেন স্ট্রোক করে বসলো। সেই আনোয়ার তো নারায়ণগঞ্জে নিরাপদে রয়েছে। কারা তাকে নিরাপদে রাখছে? আমরা সবই জানি। একটু ভেবে দেখুন শেখ হাসিনা যদি টিকে থাকতো তাহলে আপনার আমার কি অবস্থা হতো।
তিনি আরো বলেন, মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি দুর্বল কমিটি। এটা আরো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন ছিলো। টিপু সদস্য সচিব ওকে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হলো। মুকুল একজন চেয়ারম্যান তাকে লাঞ্ছিত করা হলো। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বসে বসে দেখলো। তাদের কি এখানে কিছুই করার ছিলোনা? আমার তো মনে হচ্ছে তাদের এই নীরবতার করণে সামনে আরো এমন ঘটনা ঘটতে পারে। মনে রাখা জরুরী এসব ঘটনায় বিএনপি বদনাম হচ্ছে। আমি সব সময় স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে পছন্দ করি। এই কারণে বেগম খালেদা জিয়া এখনো আমাকে মনে রেখেছে। সম্প্রতি নগরীর ১ নং বাবুরাইল এলাকায় অবস্থিত মজিদ কমিশনারের নিজ বাস ভবনে কথা হয় ষাটোর্ধ্ব এই প্রবীন বিএনপি নেতার সাথে। তখন তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
আপনার মতামত লিখুন :