News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

সাখাওয়াতের পালিত বিষধর সাপ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৫, ১০:০৮ পিএম সাখাওয়াতের পালিত বিষধর সাপ

নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয়পার্টির সহ-সভাপতি মাকসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে হঠাৎ চটেছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এই সাখাওয়াতের আশ্রয় প্রশ্রয়ে ছিলেন মাকসুদ হোসেন। কিন্তু হঠাৎ করে সাখাওয়াতের পালিত সাপ কেন বিষধরে রূপ নিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে নারায়ণগঞ্জের মানুষের মাঝে। সদর ও বন্দর আসনে এমপি নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করার পর গত ৪ মার্চ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তিও পান মাকসুদ। তবে এর আগে সাখাওয়াতের একান্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন মাকসুদ। মাকসুদকে রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টার কমতিও ছিল না সাখাওয়াতের। কিন্তু সেই মাকসুদকে আবারো জেলে ভরার হুমকি দিয়েছেন সাখাওয়াত। বলেছেন, এমপি হওয়ার স্বাদ জাগছে, আপনার ঠিকানা হবে জেলখানা।

জানাগেছে, গত ২৫ জুলাই বন্দর মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য নবায়ন ও সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরণ কর্মস‚চিতে প্রধান অতিথি হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন খান মাকসুদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মাকসুদ হোসেন সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের দোসর ছিল। ৫ আগস্টের পর মাকসুদ ও তার ছেলে শুভর নেতৃত্বে বন্দরে ৩০টি বাড়িতে লুটপাট অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এখন তার স্বাদ জাগছে এমপি হওয়ার। তার এমপি হওয়ার খায়েশ পূরণ হবে না। তার জায়গা হবে জেলখানায়।’

যদিও গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতার আশ্রয়ে ছিলেন পতিত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দোসর ও ওসমান পরিবারের আশীর্বাদে বন্দর উপজেলায় নব্য দাপটশালী রাজাকারপুত্র মাকসুদ হোসেন। যে কারণে প্রথম দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর থানায় দায়েরকৃত কোনো মামলায় আসামী করা হয়নি মাকসুদ হোসেনকে। কিন্তু সরকার পতনের কয়েক মাস পর ফতুল্লা থানার একটি মামলায় তাকে আসামী করা হয়।

গত ৫ আগস্টের পর থেকে দিব্যি প্রকাশ্যেই ঘুরে বেরিয়েছেন মাকসুদ হোসেন। তার ছেলে শুভর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সরকার পতনের পর এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণও করেছেন মাকসুদ। গত ৪ মার্চ বন্দর থানা পুলিশ জেলা জাতীয়পার্টির সহ-সভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীকে তাকে ফতুল্লা থানার হত্যাচেষ্টার মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

অনেকেই জানিয়েছিলেন, সমালোচনা এড়াতে আদালতে মাকসুদের পক্ষে সরাসরি আইনি সহায়তা দেননি সাখাওয়াত হোসেন খান।

তবে বিএনপি নেতা ও প্রভাবশালী আইনজীবী কেউ কেউ পেছন থেকে মাকসুদের পক্ষে কাজ করছেন। ৫ মার্চ আদালতে নেয়ার পর মাকসুদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথাও বলেছেন ওইসব নেতারা।

স্থানীয়রা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন মাকসুদ হোসেন। সর্বশেষ গত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন তিনি। ওই নির্বাচনে বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আতাউর রহমান মুকুল প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও মহানগর বিএনপির শীর্ষ দুইনেতা নির্বাচনের প্রায় দুই মাস প‚র্ব থেকে আতাউর রহমান মুকুলের বিরোধীতা করে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুকুলের বিরুদ্ধে বক্তৃতা রাখেন। সাখাওয়াত টিপুর লোকজন সরাসরি মাকসুদের পক্ষে কাজ করেন নির্বাচনে।

এ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে এও খবর ছিল যে, মাকসুদ হোসেনের কাছ থেকে প্রোগ্রাম প্রতি মোটা অংকের টাকা পেতো বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বন্দর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একাধিক মামলার আসামী হয়েছেন। কিন্তু মাকসুদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী জনতা হত্যার দায়ে ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও সে সময় কোনো মামলা হয়নি।

স্থানীয়দের মাঝে গুঞ্জন ছিল যে, মাকসুদকে মামলা থেকে রেহাই দেয়ার বিনিময়ে বিএনপির শীর্ষ দুইনেতা দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মাকসুদের কাছ থেকে। যে কারনে জেলার সাতটি থানার মধ্যে কোথাও মাকসুদের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত মামলা দয়েরের খবর পাওয়া যায়নি। উল্টো মাকসুদের পূর্বের মামলাগুলো থেকে তাকে রেহাই দেয়ার চেষ্টা করেছে বিএনপির নেতারা।

স্থানীয়রা আরো জানান, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প‚র্বে নারী ঘটিত ঘটনায় কারাগারে যান মাকসুদ হোসেন। ওই ঘ্টনায় মাকসুদের জামিনের ব্যবস্থাও করেছিলেন বিএনপির একজন শীর্ষ আইনজীবী।

Islam's Group