নারায়ণগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসে যখন জেলাজুড়ে বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ, দু:খ কাজ করছে তখন নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। সময়ের নারায়ণগঞ্জকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ এই দুটি আসন এবং তার বড় ছেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি জিএম সাদরিল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জন্য লড়বেন।
নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “তিনটি কারণে আমি নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। প্রথমত, ভোটার সংখ্যা আনুপাতিক হার। যে আসনগুলোতে ভোটার কমবেশি ছিল সে আসনগুলোতে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, উপজেলাগুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভারসাম্য আসবে। তৃতীয়ত, ভৌগলিক সীমারেখার তারতম্য দূর হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে আসায় জনগণের কল্যান হয়েছে। আবার ফতুল্লার যে পাঁঁচটি ইউনিয়ন আছে এবং বন্দরের সাথে যে দুইটা ইউনিয়ন ছিল আলীরটেক ও গোপনগর ২০০১ সালে একসঙ্গে ছিল। সেটা আবার পুনরায় ফতুল্লার ৫টা ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এই ৭টিই হচ্ছে ইউনিয়ন এলাকা। এখানে কোনো পৌরসভা নেই। এর ফলে ওই উপজেলার অধীনে প্রশাসনিক কার্যালয় একেবারে পৃথক হবে। আবার ভৌগলিকভাবে এই ৭টি ইউনিয়নকে একসঙ্গে করা একেবার সঠিক হয়েছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ভোটার সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল। এবার সিদ্ধিরগঞ্জ বাদ দিয়ে দেওয়ায় এখান থেকে বড় রকমের বৈষম্য দূর হয়েছে। আর সোনারগাঁ আসনে ভোটার সংখ্যা খুব কম ছিল। আর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বন্দর উপজেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক কোনো মিল নেই। একটা হলো সিটি করপোরেশনের আরেকটা হলো উপজেলা কাঠামো। বর্তমানে সোনারগাঁয়ের ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে বন্দর উপজেলার ইউনিয়নগুলো এবং বন্দর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বাকি সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডগুলোর যুক্ত করায় একটি সুন্দর ভারসাম্য হয়েছে।”
তবে এতে করে রাজনীতিবিদদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দুটি কারণে জনগণের জন্য তা অনেক সুবিধা হয়েছে। কারণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে উপজেলায় উন্নয়নের কোনো সম্পর্ক নেই। ফতুল্লার ইউনিয়নগুলো বর্তমানে একটি আসন হয়ে গেলো। সোনারগাঁ ও বন্দর উপজেলা একটি হয়ে গেলো। আর সিটি করপোরেশন উন্নয়নের একটি চাবিকাঠি হয়ে গেলো। এখন যারা এমপি হবেন তারা যার যার ভূখন্ডের জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। কেউ কাউকে পথরোধ করতে পারবে না। এটা অনেক ভালো কাজ হয়েছে। যদি সবশেষ চূড়ান্ত হয়। আমরা যারা নির্বাচন করতে চাই তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে। আমার জন্য সুবিধা হয়েছে সব এলাকাই আমার কাছে পুরনো। সব এলাকাই আমার অনুকূলে। আর আমি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও লড়বো। কারণ ওই আসনের জনগণ আমাকে হায়ার করে নিয়ে যাচ্ছে। আমি যতটুকু ওইখানে কাজ করতে পারবো দল ততোই উপকৃত হবে। আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আমার ছেলে সাদরিল লড়বেন। ”
আপনার মতামত লিখুন :