নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিএনপির সাবেক নেতা মো. শাহ আলমের জন্য এটি যেন আশীর্বাদ হয়েই এসেছে। ফতুল্লা থানা বিএনপির এই সাবেক সভাপতি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন নতুনভাবে। কারণ এবার এই আসনে আর নেই সিদ্ধিরগঞ্জ যে অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্ব›দ্বী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও মামুন মাহমুদ।
নতুন সীমানা অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে রয়েছে ফতুল্লা, এনায়েতনগর, বক্তাবলী, কাশীপুর, কুতুবপুর, গোপনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন। সিদ্ধিরগঞ্জকে সরিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে এই আসনের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। ফলে শাহ আলমের জন্য এমপি হওয়ার সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উজ্জ্বল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ফতুল্লা অঞ্চলে শাহ আলমের জনপ্রিয়তা বরাবরই বেশি। এলাকাবাসীর বড় একটি অংশই মনে করেন, নিজ এলাকার প্রার্থী হওয়ায় এই আসনে তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতিনিধি হতে পারেন। অন্যদিকে, ফতুল্লা থেকে বিএনপির রাজনীতিতে তেমন আর কোন শক্তিশালী নেতা এখন আলোচনায় নেই, যা শাহ আলমের জন্য সুবিধাজনক।
তবে শাহ আলমের রাজনৈতিক যাত্রা সবসময় সরল ছিল না। ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনয়ন না পেয়ে মনির হোসাইন কাসেমীর মনোনয়নের প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নেতাকর্মীরা। শাহ আলমও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন এবং রাজনীতি থেকে সরে যান। এরপর দীর্ঘ সময় ছিলেন নিষ্ক্রিয়।
কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরে গোপনে সক্রিয় হয়েছেন শাহ আলম। দলের হাইকমান্ড এমনকি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথেও যোগাযোগ রাখছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের ঘোষণায় যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন তিনি।
গত ৩ এপ্রিল ফতুল্লা থানা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এক বৈঠকে বসেন শাহ আলম। সেখানেই তিনি আত্মবিশ্বাসী ভাষায় বলেন, “আপনারা চিন্তা করেন না, আমি নির্বাচন করলে নমিনেশন পাওয়ার ক্ষমতা রাখি। ইনশাআল্লাহ নির্বাচন করব।” তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে আমি আপনাদের ছেড়ে যাইনি, আমি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২৪টি মামলা খেয়েছি। আল্লাহর রহমতে সেই দুঃসময় কেটে গেছে। এবার মানুষের পছন্দের প্রতিনিধিকে সুযোগ দেওয়া হবে।” শাহ আলম দাবি করেন, তার সময়ে জেলা বিএনপির কমিটিতে ফতুল্লার ৩৬ জনকে জায়গা দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “মানুষ বলেছে এটা ফতুল্লার কমিটি নাকি জেলার কমিটি! আমি ১০০, ১৫০ এমনকি ২০০ সদস্যের কমিটি করেছি, সবাইকে জায়গা দিতে চেয়েছি।”
রাজনীতিতে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর আবারো আলোচনায় আসা এবং আসন পুনর্বিন্যাসের মতো বড় সুবিধা পাওয়ায় এখন সবাই প্রশ্ন করছেন বিএনপির পরবর্তী নির্বাচনী কৌশলে কি মো. শাহ আলম হবেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মূল মুখ। দলীয় মনোনয়নপত্র পাওয়ার দৌড়ে এখন তিনি যেন এককভাবে এগিয়ে রয়েছেন। সময়ই বলে দেবে এই পরিবর্তন তার জন্য শেষ পর্যন্ত কতটা ফলপ্রসূ হয়। তবে আপাতত বলা যায়, আসন পুনর্বিন্যাসে এমপি হওয়ার লড়াইয়ে একধাপ এগিয়ে গেলেন মো. শাহ আলম।
আপনার মতামত লিখুন :