আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রচার প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রতীক বরাদ্ধের পর থেকে। সেই বিবেচনায় ২১ জানুয়ারির পূর্বে প্রচার প্রচারণা করার সুযোগ নেই কোন প্রার্থীর। এর আগে প্রতীক প্রদর্শন করে বা গণসংযোগ করে ভোট চাইলে তা হবে আচরণবিধি লঙ্ঘন। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা আচরণবিধি ভঙ্গ না করলেও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী আচরণবিধি ভাঙ্গার মহোৎসব শুরু করেছেন।
নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনের কোথাও বিএনপির কোন প্রার্থী ভোট চেয়ে মিছিল, গণসংযোগ কিংবা ব্যানার ফেস্টুন সাটাননি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী তার খেজুর গাছ প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে একাধিক স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন স্থাপন করেছেন। সেই সাথে খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট চেয়ে মিছিল করতেও দেখা গেছে তার অনুসারীদের। যা নিয়ে সমালোচনা তৈরী হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ধর্মীয় নেতা হয়েও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রথম সারিতে উঠে এসেছে তার কর্মকান্ড। অথচ তারাই নানান সময়ে ধর্মীয় বয়ানে উপদেশ দেন দেশের আইন শৃঙ্খলা ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লার বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ফেস্টুন সাটিয়েছেন মনির হোসেন কাসেমী। এর মধ্যে, ছাত্র জমিয়তের উদ্যোগে খেজুর গাছ প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে ফেস্টুন সাটাতে দেখা গেছে। একই ভাবে শহরের লিংক রোডে ওভারপাসের দেয়ালে বিএনপি নেতাদের খেজুর গাছ মার্কায় ভোট চেয়ে লাগানো হয়েছে ফেস্টুন। খেজুর গাছ মার্কার পক্ষে নির্বাচনী মিছিল করতে দেখা গেছে ফতুল্লার উত্তর নরসিংহপুর এলাকায়। স্থানীয় বিএনপি নেতা ফরিদ আহমেদ এবং নাজমুল হকের নেতৃত্বে বিশাল শোডাউন ও নির্বাচনী মিছিল করা হয়। যেখানে খেজুর গাছ মার্কার পক্ষে স্লোগান দিয়ে ভোট প্রার্থনা করা হয়।
তাদের এই নিয়ম ভাঙ্গার দৃশ্য দেখে অনেকেই হতবাক হয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, কাসেমী কেন নির্বাচনী আচরণবিধি মানছে না? কারন এর সাথে যেমন বিএনপির ইমেজ জড়িত। তেমনি জড়িত নির্বাচনী পরিবেশ। কোন কারনে প্রতিপক্ষ যদি এনিয়ে আপত্তি তোলে তাহলে শুধু কাসেমী একা বিতর্কিত হবে তা নয়, পুরো বিএনপি জোট সমালোচনার শিকার হবে। যা প্রভাব পড়বে অন্যান্য আসনেও। যেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা মরিয়া হয়ে ইমেজ রক্ষা করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। সেখানে কাসেমী নিজের পাশাপাশি বাকিদের ভোট ব্যাংকও নষ্ট করছেন।
এই বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় জানায়, কোন প্রার্থী যদি প্রতীক বরাদ্ধের আগে প্রচার প্রচারণা চালায় তাহলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে সোনারগাঁয়ে এক প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে। প্রার্থীরা সরাসরি অভিযোগ দিতে পারেন, কিংবা প্রশাসনের নজরে এলে সরাসরি প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারবে। নারায়ণগঞ্জের কোথাও যদি আচরণবিধি লঙ্ঘনের চিত্র দেখা যায়, তাহলে দ্রুতই ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন।

































আপনার মতামত লিখুন :