News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দিন গড়াচ্ছে পথ কঠিন হচ্ছে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দিন গড়াচ্ছে পথ কঠিন হচ্ছে

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পথের কাটা হতে পারেন স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী মো. মাকসুদ হোসেন ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন। এ দুইজনের রয়েছে নিরব ভোট ব্যাংক।

জানা যায়, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা নাটকীয়তা শেষে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। নির্বাচনের মাঠে তিনি বেশ দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন লোক। ভোটের মাঠে তার বেশ দখল রয়েছে।

সেই সাথে তার বিপরীতে চূড়ান্তভাবে ভোটের মাঠে নেমেছেন ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন। যদিও এই আসনটি অনেকটাই গুছিয়ে এনেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। কিন্তু নির্বাচনী সমঝোতার স্বার্থে এই আসনটি খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে এবিএম সিরাজুল মামুনের জন্য ছেড়ে দেন যার সারা নারায়ণগঞ্জজুড়েই নিরব গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও বন্দর এলাকায় তার ভোট কাটতে পারেন মাকসুদ হোসেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ওসমান পরিবারের বাইরে স্বতন্ত্রভাবে উপজেলা নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিলেন। সেই মাকসুদ হোসেন এবার সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন যা আবুল কালামের জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে আবির্ভাব হতে পারে।

তার বিপরীতে ক্লিন ইমেজের লোক ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় হিসেবে হিসেবে এবিএম সিরাজুল মামুনের এগিয়ে যাওয়ার অনেক সম্ভাবনাময় পথ খোলা রয়েছে। বিএনপির বিপরীতে থাকা সকল রাজনৈতিক দলগুলো একজোট হয়ে কাজ করবেন সিরাজুল মামুনের পক্ষে। বিশেষ করে তার পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বেশ জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি খেলাফত মজলিসেরও নিজস্ব অবস্থান রয়েছে বন্দর এলাকায়। একই সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরাও মামুনের পক্ষ নিয়ে ভোটের মাঠে থাকবেন।

এদিকে সিরাজুল মামুন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার পেশার সাথে জড়িত রয়েছেন। বর্তমানে তার ছাত্ররা দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সেই সাথে অনেকেই বিশাল অবস্থান তৈরি করেছেন। আর এসকল ছাত্ররা এবিএম মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য সবকিছু নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন। তারা হয়তো সময়মতো নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারেন।

পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ শহর এলাকার বাসিন্দা হিসেবে এবিএম সিরাজুল মামুনের ভোট কাটার মতো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ফলে শহর এলাকার বাসিন্দা হিসেবে তার একচেটিয়া ভোট পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির বিভক্ত একটি অংশেরও ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সিরাজুল মামুনের।

সবমিলিয়ে এবিএম সিরাজুল মামুন যদি শক্তভাবে নির্বাচনী মাঠে থেকে নিজের অবস্থান এবং খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা নিজেদের জানান দিতে পারেন তাহলে তার পক্ষে নিরব জোয়ার হওয়া অকল্পনীয় নয়।

জানা যায়, বন্দর উপজেলা নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের গডফাডার খ্যাত ওসমান পরিবারের বিপরীতে গিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন মাকসুদ হোসেন। অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্বেও তিনি ভোটের লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উপজেলা চেয়ারম্যান পদ স্থগিত হয়ে যায়।

বন্দর উপজেলা নির্বাচনের পর এবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা করেন মাকসুদ হোসেন। তারই অংশ হিসেবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন আবেদন দাখিল করেছিলেন।

কিন্তু গত ৩ জানুয়ারি বাছাইয়ের দিন হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায় মাকসুদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইসিতে আপিল করেছিলেন। সোমবার দুপুরে তার আপিল আবেদনের শুনানি হয়। সেই সাথে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী মোঃ মাকসুদ হোসেন।

শুনানি শেষে মাকসুদ হোসেনের আইনজীবী ব্যারিস্টার সুব্রত কুমার কুন্ডু সাংবাদিকদের জানান, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী মোঃ মাকসুদ হোসেনের আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। এর ফলে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

মাকসুদ হোসেন সাংবাদিকদেরকে জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা আমার মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন। তাদের বাতিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি আপিল করে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

সবমিলিয়ে বন্দর এলাকার একচেটিয়া ভোট দরকার অ্যাডভোকেট আবুল কালামের জন্য। আর যদি একচেটিয়া ভোট তিনি নিজের করে না নিতে পারেন তাহলে তার জয়ের পথ কঠিন হয়ে যাবে। এই কঠিন পথে বন্দর উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে প্রধান কারণ হবেন মাকসুদ হোসেন।

Ad Placement 1
Ad Placement 2
Islam's Group