News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

শহরে নেই মানসম্মত খাবারের রেঁস্তোরা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম শহরে নেই মানসম্মত খাবারের রেঁস্তোরা

শীতলক্ষ্যা নদী তীরের ১ নং সেন্ট্রাল ঘাটের সামনে অবস্থিত রেঁস্তোরা। বন্দর খেয়া ঘাট, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও ট্রেন স্টেশনের পাশে হওয়ায় এই হোটেলে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ খাবার খেতে প্রবেশ করেন। তবে এদের মধ্যে অধিকাংশই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বের হয়ে আসেন। সেন্ট্রাল ঘাট সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের এই হোটেলের অব্যবস্থাপনা ও খাবারের অতিরিক্ত দাম রাখা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই শহর বন্দরের বাসীন্দাদের। এ নিয়ে নানান সময় নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় ফেইসবুক গ্রুপগুলোতে ভুক্তভোগীরা পোস্ট করেন। তবে প্রশাসনের নজর না থাকায় নিজদের মতো করেই দীর্ঘদিন ধরে হোটেল পরিচালনা করছেন রেঁস্তোরা কর্তৃপক্ষ।

রেঁস্তোরার পাশে একটি পোশাকের দোকানে কাজ করেন বন্দরের বাসিন্দা আইয়ান হোসেন। অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা এটাকে নাম দিসি গলা কাটা হোটেল। বাসি খাবার বিক্রি কইরা দাম রাখে ফাইভ-স্টারের মতো। প্রতিদিনই ঝগরা লাগে কাস্টমারের সাথে। তাদের মতলব হইল গলা কাটা। এই জন্য কেউ একবার খাইলে আর আসেনা।

এই শহরের অধিকাংশ খাবারের হোটেল নিয়েই ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে চাষাঢ়ার সুগন্ধা, হোয়াইট হাউজ, কালীরবাজারের মাউরা হোটেল, দুই নং রেলগেট এলাকার মনির হোটেলসহ ঐতিহ্যবাহী বোস কেবিনের খাবারের মান ও অতিরিক্ত দাম নিয়েও হতাশ ভোজন রসিকরা। তাই গত ৮ ডিসেম্বর সুগন্ধা প্লাসকে বাসি খাবার রাখার অপরাধে ১ লাখ টাকা জরিমানা করার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়।

নগরবাসী বলছে, নারায়ণগঞ্জ শহর ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানা কারণেই সারাদেশের মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এরপরও এই শহরে একটি মানসম্মত খাবারের রেঁস্তোরা বা হোটেল গড়ে উঠেনি। এখানে যেসব হোটেল খাবারের ব্যবসা করছে এরমধ্যে বেশি ভাগ হোটেলই তুলনামূলক কম মানসম্মত খাবার পরিবেশ করে ভোজন রসিকদের পটেক কাটার দিকে বেশি মনযোগী বলেও জানান স্থানীয় নগরবাসী।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের মনিটরিং এখন থেকে চলবে। আমরা সামনে আরো কঠোর হতে পারি। শহরের হোটেলগুলোতে কি হয় তার কমবেশি আমাদের কানেও আসছে। সম্প্রতি আমরা সুগন্ধা প্লাসে গিয়ে পঁচা বাসি খাবার পেয়েছি। তাদের ১ লাখ টাকা জরিমানাও করেছি। আসলে আমাদের জনবল কম। যদি আমাদের জনবল বাড়ানো হয় তাহলে প্রতিটি রেঁস্তোরাকে আমরা শৃঙ্খলা ভেতরে আনতে পারবো। আমরা ছাড়াও এখানে সিটি করপোরেশনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ হোটেল রেঁস্তোরা মালিক সমিতির নেতা মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা কোনো অতিরিক্ত দাম রাখিনা। যা আছে তাই রাখি। আমরা কিভাবে ব্যবসা করি সেটা আমরা জানি। এখন এই ব্যবসা করাটা এখন কঠিন হয়ে গেছে। তারপরও কেউ আমাদের ভুল ধরিয়ে দিলে সেটা ঠিক করে নিবো।

Islam's Group