News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বিতর্ক ছাড়ছে না মনির কাসেমীর


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১০:১২ পিএম বিতর্ক ছাড়ছে না মনির কাসেমীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পাওয়া বাংলাদেশ জমিয়তে উলামা ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। তিনি নির্বাচনের মাঠে নামার পর থেকেই একের পর এক ঘটনায় বিতর্কিত হয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগের দোসরদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া থেকে শুরু করে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন সহ নানা অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত হয়ে আসছেন।

সবশেষ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে সড়কের উপর কাঠের মঞ্চ তৈরি করে দোয়া ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে কৃষক দল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। অনুষ্ঠানের জন্য এ সময় সড়কে বাঁশ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন আয়োজকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েন এ সড়কটি নিয়মিত ব্যবহার করা লোকজন এবং পথচারীরা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ফতুল্লা থানা কৃষক দলের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, অনুষ্ঠান বিকেলে শুরু হলেও সড়কের উপর মঞ্চ করায় সকাল এগারোটা থেকে আলীগঞ্জ মসজিদ রোডটিতে যান চলাচল বন্ধ ছিল। মঞ্চের পাশাপাশি সারি সারি চেয়ার সড়কের উপর সাজিয়ে রাখায় পথচারীরাও দুর্ভোগ পোহান। মঞ্চের কারণে দোকানপাটও বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

এর আগে ফতুল্লা থানার গিরিধারা এলাকার আলোচিত ও সমালোচিত ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত সাবেক কৃষক দল নেতা শাহাদাত চৌধুরী ওরফে শাহাদাত পুলিশকে এবার দেখা যায় এমপি নির্বাচন করা জমিয়ত নেতা মনির হোসাইন কাসেমীর সঙ্গে। এরই মধ্যে তার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন শাহাদাত। ছবি তুলে এলাকাতে নতুন করে প্রচারণায় নেমেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলা ও দখলের অভিযোগে এরই মধ্যে শাহাদাতের কৃষক দলের পদ স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করতে গিয়ে রীতিমত স্ট্যান্টবাজি করছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়তের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী।

গত ১৪ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে ওই মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, নির্বাচনে কেউ কেউ কালো টাকার ছড়াছড়ি করছে। তাছাড়া আমি শিল্পপতি না। আমার টাকার জোর কম। কিন্তু আমার একটি ভালো মন ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে। আমার চেয়ে অন্যরা টাকার কুমির। কানে আওয়াজ আসতেছে তারা টাকার ছড়াছড়ি করছে।

তবে গণমাধ্যমকর্মীরা সুস্পষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ থেকে কিছুটা সরে এসে বলেন, কানে সব কথা আসে কিন্তু সব কথা তো আর বিশ্বাস করতে চাই না। যদি অথেনটিক কোন প্রমাণ আসে অবশ্যই নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ দিব।

একই সাথে এদিন বিকেলে নির্বাচনের আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়তের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর পক্ষে প্রচারণা করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়ার আয়োজনের ব্যানারে মূলত নির্বাচনের প্রচারণা চালানো হয়। নির্বাচনের আইন অনুযায়ী ২১ জানুয়ারী প্রতীক বরাদ্দের পরদিন ২২ জানুয়ারী হতে প্রচারণা শুরু করা যাবে। এর আগে প্রচারণা নিষিদ্ধ।

এদিন বিকাল ৪ টায় আলীরটেক ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মুক্তারকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে ওই দোয়ার আয়োজন করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি জোটপ্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইলে খেজুর গাছ মার্কায় ভোট দিয়ে আমার হাতকে শক্তিশালী করুন। আমার হাত শক্তিশালী হলে তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী হবে। একইভাবে অন্যান্য বক্তরাও বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলীয় পক্ষে ভোট চেয়েছেন।

অন্যদিকে গত ১৩ জানুয়ারী ফতুল্লায় শীতবস্ত্র বিতরণের সময়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফেরদাউসের রহমানের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘কাসেমী সাহেবের সাথে একজন ভদ্রলোক থাকে যিনি ইমাম সমাজের কাছে বিতর্কিত। আলেম সমাজের মধ্যে বাজে একজন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ওই ভদ্রলোক আবার নারায়ণগঞ্জ-৫ এ মনোনয়ন চেয়েছিল। সেখানে তিনি ব্যর্থ হয়ে সেখানেই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার কথা। কিন্তু তিনি সেটা না হয়ে ফতুল্লায় এসে আমাদের বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ধমকের সুরে কথা বলে। আমি কাসেমী সাহেবকে এই ভেজাইল্লা ওলামাকে তাড়িয়ে দেন। বিতর্কিত লোক দিয়ে যদি ভোট চান কাসেমী সাহেবকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করবো। ওনি শামীম ওসমানের দোসর ছিল। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করেছে।

বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে মহানগর হেফাজত ইসলামের সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান ও তার অনুসারিরা শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন। সেই সাথে তাদের অনুসারীদের সাথেও মাওলানা ফেরদাউসের ভালো সম্পর্ক ছিলো। বিভিন্ন সময় ওসমানদের স্বার্থ আদায়ে মাওলানা ফেরদাউস হেফাজতের নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মসূচি পালন করতেন।

সেই সাথে বিভিন্ন সময় হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হলেও ফেরদাউস থাকতো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান মহানগর হেফাজত ইসলামকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় কেউ কিছু বলতো না। আর সেই ফেরদাউসুর রহমানকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি জোটের মনোনয়ন পাওয়া মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। কোনোভাবেই যেন তার সঙ্গ ছাড়ছেন না।

দলীয় সূত্র বলছে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি নির্বাচনী মাঠে আসার পর থেকেই নানাভাবে বিতর্কিত হচ্ছেন।

Islam's Group